কেশিয়াড়ি ব্লকের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ওরফে ঝাড়েশ্বর সাঁতরার খুনের ঘটনায় সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ফটিক পাহাড়ীকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ি ব্লকের তৃণমূল অঞ্চল সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ওরফে ঝাড়েশ্বর সাঁতরার খুনের ঘটনায় সদ্য বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ফটিক পাহাড়ীকে গ্রেপ্তার করল সিআইডি। ফটিক ছাড়াও আরো একজনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা যাচ্ছে। ধৃতদের শনিবার তোলা হয় মেদিনীপুর আদালতে। সূত্রের খবর, বেশ কিছুদিন ধরেই মোবাইল বন্ধ রেখে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল ফটিক। শুক্রবার গভীর রাতে দীঘা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি তদন্তকারী দল। কেশিয়াড়ি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির দাবিদার ছিল এই ফটিক। গত ১০ আগস্ট কেশিয়াড়ি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন হওয়ার কথা ছিল। সভাপতি, সহ সভাপতি নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হয়নি। পরে কেশিয়াড়ি পঞ্চায়েত সমিতির বোর্ড গঠন নিয়ে মামলাও হয়েছে কলকাতা হাইকোর্টে। মামলা করেছেন সমিতির ১৫ জন তৃণমূল সদস্য। এখানে সমিতির ২৭ জন সদস্যের মধ্যে তৃণমূলেরই ২৩ জন। এদের মধ্যে ‘আড়াআড়ি’ বিভাজন রয়েছে। তৃণমূলের একপক্ষ চেয়েছিল, সমিতির সভাপতি হোন ফটিক পাহাড়ি। আরেকপক্ষ চেয়েছিল সভাপতি হোক উত্তম শীট। জেলা নেতৃত্বের ‘হুইপ’ ছিল উত্তমকে সভাপতি করার। দলেরই একাংশ সেই ‘হুইপ’ মানেননি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে বোর্ড গঠন স্থগিত রাখা হয়। ঘটনাচক্রে, এর পরপরই ফটিককে দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। সুবিচার চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূলের ১৫ জন জয়ী পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য। এদের মধ্যে রয়েছেন ফটিকও। জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে খুন হয়েছিলেন মৃত্যুঞ্জয়। কেশিয়াড়ির ডাডরা গ্রামের এই বাসিন্দা দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে নছিপুরে গিয়েছিলেন। রাতে বাইকে করে ফিরছিলেন। ভসরাঘাটে ঢোকার সময়ে তাঁর উপর চড়াও হয়েছিল সশস্ত্র দুষ্কৃতীদল বলে অভিযোগ। তাঁকে লক্ষ্য করে তির ছোড়া হয়েছিল। পায়ে তির লাগায় বাইক থেকে পড়ে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর মাথায় ধারাল অস্ত্র দিয়ে তাঁকে কোপানো হয়েছিল বলে অভিযোগ। খুনের পর রাস্তার ধারে দেহ ফেলে রেখে দেয় দুষ্কৃতীরা। বিজেপির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ এনে সরব হয়েছিল তৃণমূল। শুরুতে তদন্তে নামে পুলিশই। পরে তদন্তভার গিয়েছে সিআইডি- র হাতে। ধৃত ফটিক রঞ্জন পাহাড়ি এবং কার্তিক পালইকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *