খড়গপুর শহরের বোগদা এলাকায় প্রাতঃভ্রমণ এবং চা চক্রে যোগ দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন দিলীপ ঘোষ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বকেয়া নিয়ে এবার চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের,
একশো দিনের টাকা মেটাতে এক সপ্তাহের সময়সীমা। কেন্দ্র-রাজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে টাকা না মেটালে বৃহত্তর আন্দোলন। বললেন মমতা।
এবার সেই প্রসঙ্গ নিয়ে শনিবার সাতসকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শহরের বোগদা এলাকায় প্রাতঃভ্রমণ এবং চা চক্রে যোগ দিয়ে সংবাদ মাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করলেন তিনি, তিনি বলেন মমতা ব্যানার্জি ধমকি দেন খালি। হিসাব দেবেনা, চমকাচ্ছেন, টাকা কি ওনার জমিদারি নাকি? পাবলিকের ট্যাক্সের টাকা লুট করার জন্য দিয়ে দেবে কেন্দ্রীয় সরকার! হিসাব দিন টাকা নিয়ে নিন, অন্যদিকে ফের বিস্ফোরক অনুপম হাজরা। ভোটে লড়তে দল লাগে না। বোলপুর থেকেই লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ। দায়িত্ব নেওয়ার পর ভাল কাজ করছেন কাজল শেখ। বঙ্গ বিজেপিকে কটাক্ষে বিঁধে অনুপমের মুখে কাজলের স্তুতি। এবার সেই বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন উনি কি করছেন উনি ঠিক করবেন, পার্টির কাছে কথা বলুক।
পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এখন মনে করছেন, নীতীশ ‘ইন্ডিয়া’ ছেড়ে গেলে জোটের ক্ষতি তো হবেই না, উল্টে লাভ হবে। তৃণমূল সূত্রে খবর, ঘনিষ্ঠ মহলে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন , নীতীশ চলে গেলে ইন্ডিয়ার পক্ষে ভাল হবে। মমতা এ-ও মনে করেন যে, নীতীশ বিহারের জনতার চোখে অপ্রিয় হয়ে পড়েছেন। বেরিয়ে গেলে তেজস্বীদের কাজ করতে সুবিধা হবে। সেই বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন উনি নিজেকে জোটে থাকবেন? উনি তো বলছেন নিজেই জোটে থাকবেন না, তাহলে ওনার জোট নিয়ে চিন্তাভাবনা কেন, জোট বলে কিছু নেই আমি বলেছিলাম, সব চা খাওয়া পার্টি। এসব ক’দিন বাদে সব উঠে যাবে,
অন্যদিকে “২০২৪-র নির্বাচনের আগে এরাজ্যে CAA হবেই,তারপরেই NRC’। রিপাবলিকে একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। সেই বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন সরকারে আছেন তিনি। তিনি ভাল জানেন, আর তিনি যেটা বলেছেন তা মানুষ বিশ্বাসও করে। দেখা যাক কবে হয় আমরাও অপেক্ষা করছি।
পাশাপাশি কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক আরো বলেছেন “দলবদল এবারেও হবে।
তৃণমূল কংগ্রেসে শুধু চোর-ডাকাতই নেই,
কিছু ভালো মানুষও আছেন, যারা নিজেরাও প্রতারিত।
তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা। দুর্নীতিগ্রস্তদের জন্য নয়”। সেই বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন নিচুস্তরে সবাই আসতে শুরু করেছে, আর দিদির এই নাটকবাজি দেখে, রাম বিরোধী তার যে পদক্ষেপ, তার পার্টির লোকেরা খুব মর্মাহত হয়েছেন। তারাও হয়তো লোকসভার আগেই ওই দল ছেড়ে দেবেন, কারণ ওই পার্টির কোন ভবিষ্যৎও নাই। অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতে চারজন পদ্মভূষণ অ্যাওয়ার্ড এবং পদ্মত তালিকা তে একাধিক ব্যক্তি, টার্গেট কি লোকসভা ভোট? দক্ষিণের রাজ্যগুলিতে বিজেপি অনেকটা পিছিয়ে,এজন্যই কি এই কৌশল, এই বিষয় নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন কেন পশ্চিম বাংলাতে দু তিনজন পেয়েছেন পদ্মভূষণ, দক্ষিণের লোক কি পেতে পারেন না! না ওনাদের কোন যোগ্যতা নেই, একমাত্র কেন্দ্রের বিজেপি সরকার যারা সমাজের জন্য করে গেছেন তাদেরকে খুঁজে সম্মানিত করছেন, এর আগে গান্ধী পরিবারের আশেপাশের লোকই এই সম্মান পেতেন, এবার যোগ্য ব্যক্তি রাই এই পুরস্কার পারছেন, বাংলাতে এর আগে গুণী ব্যক্তিদের সম্মান জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এবার সেই পথেই কি হাঁটছেন বিজেপি,সেই প্রসঙ্গ নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন উনি সম্মান মানে কি? একটা মাত্র পুরস্কার দিয়েছেন, যার কোন মা-বাপ নেই, অমুক, শ্রী তমুক শ্রী, তাদের জন্য কি করেছেন উনি, যারা তাদের নিজেদের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারদর্শী তাদেরকেই সম্মানিত করছে মোদি সরকার, আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তারা যাতে মুখ না খুলে তাদেরকেই সম্মানিত করছেন, ঠিক এভাবেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিশানা করলেন দিলীপ ঘোষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *