পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ২০২৪ সালের কেন্দ্রীয় অন্তর্বর্তী বাজেটে বহু প্রতিক্ষিত পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে কোনও টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় প্রতিবাদে সোমবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বানভাসিরা ঘাটালের কলেজ মোড় সংলগ্ন পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ডে বাজেটের প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিদ্যাসাগর কেন্দ্রীয় বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হয়ে মিছিল করে পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ডে বাজেটের প্রতিলিপি পোড়ান।প্রতিলিপিতে অগ্নিসংযোগ করেন কমিটির সভাপতি ডাঃ বিকাশ চন্দ্র হাজরা। এছাড়াও কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন,কমিটির কার্যকরী সভাপতি সত্যসাধন চক্রবর্তী, অফিস সম্পাদক কানাই লাল পাখিরা প্রমুখ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, কেন্দ্র ও রাজ্য বাজেটে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে অর্থ বরাদ্দের দাবী জানিয়ে গত ১৭ জানুয়ারী ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি,কেন্দ্রীয় জল শক্তিমন্ত্রকের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং সেখাওয়াত ও মূখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিকট স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১ লা ফেব্রুয়ারী অন্তর্বর্তী কেন্দ্রীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন ওই প্রকল্পের বিষয়ে কোন উল্লেখ না করায় পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ২০ লক্ষাধিক বানভাসি মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণ সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র নায়ক ও দেবাশীষ মাইতি বলেন, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তেরোটি ব্লকের স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণে প্রায় কুড়ি লক্ষাধিক অধিবাসীকে প্রতি বছরের বন্যার হাত থেকে মুক্তি দিতে তৈরি ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার নানা অজুহাতে টালবাহানা করে এখনো পর্যন্ত কোন অর্থ বরাদ্দ করে নি। ফলস্বরূপ দুই জেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রত্যেক বছর বর্ষার সময় সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।আরো উল্লেখ্য, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ২০১৫ সালে গঙ্গা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কমিশন (জি.এফ.সি.সি.) ও কেন্দ্রীয় সরকারের জলসম্পদ দপ্তরের ছাড়পত্র পায়। এরপর কেন্দ্র ও রাজ্য কোন্ সরকার এই মেগা প্রকল্পের জন্য কত শতাংশ টাকা দেবে, তা নিয়ে দড়ি টানাটানি চলছে। ইতিমধ্যে ফি বছরের বন্যা কিন্তু থেমে নেই। বরং বন্যার ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে।
বিক্ষোভ সভায় নারায়ণবাবু বলেন, গত ২০২২ সালে প্রকল্পটি কেন্দ্রের ফ্ল্যাড ম্যানেজমেন্ট এন্ড ইনভেস্টমেন্ট ক্লিয়ারেন্স কমিটির ছাড়পত্র পাওয়ার পর কেন্দ্রীয় শাসক দলের নেতারা টাকা মঞ্জুর হয়ে গিয়েছে বলে ঘাটালে বিজয় সমাবেশ করেন। যেখানে কেন্দ্রীয় অর্থ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরীও যোগ দেন। অন্যদিকে রাজ্যের শাসকদলও পিছিয়ে রইল না। তারাও বললেন, রাজ্য ইতিমধ্যে ৫০০ কোটি টাকা খরচ করে পলসপাই,দুর্বাচটী,ক্ষীরাই,বাক্সী,ক্ষীরাই-বাক্সী,নূতন কাঁসাইয়ের নিম্নাংশ,চন্দ্রেশ্বর প্রভৃতি নদী ও খাল সংস্কার করেছেন। অথচ প্রকল্পের জন্য কোনও সরকারের পক্ষ থেকেই কোনও টাকা মঞ্জুর করা হয় নি। এই অবস্থায় আসন্ন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করে আগামী বর্ষার পূর্বেই শীলাবতী নদীর অংশে কাজ শুরুর দাবীতে গত মাসে উভয় সরকারের মন্ত্রীদের আমরা চিঠি দিয়েছিলাম। আমরা আশা করেছিলাম,এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার বাজেটে অর্থ বরাদ্দ করবে। কিন্তু কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর বাজেট ভাষন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলাবাসীকে আশাহত করেছে। উনি আরো বলেন,আমরা আজ ঘাটালে কেন্দ্রীয় বাজেটের প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করছি। জানি না,পশ্চিম বঙ্গ সরকার আগামী ৮ ফেব্রুয়ারী রাজ্য বাজেটে কোন অর্থ বরাদ্দ করবেন কিনা। যদি করেন ভাল,তা না হলে রাজ্য বাজেটের পর আমরা বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি নিতে বাধ্য হব।
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে কোনও টাকা বরাদ্দ না হওয়ায় প্রতিবাদে সোমবার পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বানভাসিরা ঘাটালের কলেজ মোড় সংলগ্ন পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ডে বাজেটের প্রতিলিপি পুড়িয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।












Leave a Reply