বাংলার নারী আন্দোলনের অগ্রগণ্য কর্মী আশালতা সেন – প্রয়াণ দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন ছিল কিছু মানুষের অব্যর্থ পরিশ্রম যার ফলেই ব্রিটিশদের থেকে ভারত রাজনৈতিক দিক থেকে মুক্তি পেয়েছে। ভারত উপমহাদেশের বিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সম্রাজ্যবাদ বিরোধী যে সশস্ত্র বিপ্লববাদী লড়াই-সংগ্রাম সংগঠিত হয় এবং যার ধারাবাহিকতায় ভারত স্বাধীন হয়, তার মূলে যে সকল বিপ্লবীর নাম সর্বজন স্বীকৃত তাঁদের মধ্যে আশালতা সেন  প্রথমসারির একজন অন্যতম বিপ্লবী ছিলেন।ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম শুধু শহীদ ভগৎ সিং-এর মতই নয় বরং শক্তিশালী নারীদের দ্বারা প্রশস্ত হয়েছিল যারা তাদের মাটিতে দাঁড়িয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য ব্রিটিশদের সাথে লড়াই করেছিল। আশালতা সেন  ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে এক উল্লেখযোগ্য নাম, যিনি দেশমতৃকার শৃঙ্খল মুক্তির জন্য নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন সম্পূর্ণ রূপে। ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব ও অগ্নিকন্যা ছিলেন তিনি।  আশালতা সেন ছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশের ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের একজন ব্যক্তিত্ব, সক্রিয় কর্মী, কবি ও সমাজসেবক এবং অগ্নিযুগের নারী বিপ্লবী।

জন্ম ও পরিবার——–

আশালতা সেন ৫ ফেব্রুয়ারি ১৮৯৪ সালে নোয়াখালী এক উকিল পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তার পৈতৃক নিবাস ছিল বিক্রমপুর এর বিদগাঁও গ্রামে। । তার পিতার নাম বগলামোহন দাশগুপ্ত ও মাতার নাম মানদাসুন্দরী দাশগুপ্ত। পিতা ছিলেন নোয়াখালী জজ কোর্টের আইনজীবী।

রাজনৈতিক জীবন——

আশালতা সেন ছোটবেলা থেকেই সাহিত্যের প্রতি অনুরাগী ছিলেন।  ১৯০৪ সালে, দশ বছর বয়সে, তিনি বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে মাসিক অন্ত:পুর প্রকাশ করেন এবং তার জাতীয়তাবাদী কবিতা সুধীসমাজের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।  তাঁর মাতামহী নবশশী দেবীর অনুপ্রেরণা ও অনুপ্রেরণায় আশালতা সেন রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে স্বদেশী অভিযান শুরু করেন।  ১৯২১ সালের যোগ আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শ তাকে বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। তারপর তিনি কাজে ছুটে যান।  শ্বশুরের সহায়তায় তিনি ঢাকা গেন্ডারিয়ায় মহিলাদের জন্য ‘শিক্ষাশ্রম’ নামে একটি কর্মশালা স্থাপন করেন।
১৯২২ সালে, তিনি ঢাকা জেলা থেকে প্রতিনিধি হিসাবে গয়া কংগ্রেসে যোগদান করেন।  তখন পর্যন্ত তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য ছিলেন।  ১৯২৪ সালে, তিনি নারীদের মধ্যে দেশপ্রেম জাগিয়ে তুলতে এবং গান্ধীজির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরমা গুপ্তা এবং সরু গুপ্তার সহায়তায় ‘গেন্ডারিয়া মহিলা সমিতি’ সংগঠিত করেন।  মহিলা সমিতির গ্রাহকরা নিজেরাই বোঝেন!  তিনি কাঁধে চড়ে দূর-দূরান্তে ঘুরে বেড়াতেন এবং ঘরে ঘরে খদ্দর বিক্রি ও প্রচারের কাজ করতেন।  ১৯২৫ সালে আশালতা সেন নিখিল ভারত কাটুনি সংঘের (A.I.S.A.) সদস্য হন এবং ব্যাপক খদ্দর-প্রচারে নিযুক্ত হন।

মৃত্যু——

তিনি ১৯৮৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে তার পুত্রের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।

।। তথ্য : সংগৃহীত উইকিপিডিয়া ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *