নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট: চৈত্র মাস এলেই সাশ্রয়ী কেনাকাটার ধুম পড়ে যায় গৃহিণীদের মধ্যে। সঠিক পরিকল্পনা ও সচেতনতার সঙ্গে কেনাকাটা করলে সারা বছরের বাজেটেও কিছুটা স্বস্তি মেলে। আর তাই চৈত্র সেল শুরু হতেই বালুরঘাটের বাজারে কেনাকাটার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।
বুধবার বালুরঘাট বুড়ি কালি বাড়ির বাজারে কেনাকাটা করতে এসেছিলেন গৃহবধূ ডলি মুখার্জী। তার মতে, “শপিং মলে ডিসকাউন্ট থাকলেও অনেক শর্ত জড়িত থাকে। কিন্তু ফুটপাতের দোকানে দরদাম করার সুযোগ মেলে, ফলে আরও সাশ্রয় করা সম্ভব। প্রতিবছরই তাই চৈত্র সেলে কেনাকাটা করি।” একই মত পোষণ করলেন অপর গৃহবধূ সুপ্রিয়া দাস। তিনি বললেন, “চৈত্র সেলে পর্দা, বাচ্চাদের জামাকাপড়, সোফার কভার, বিছানার চাদর সহ নানান দরকারি জিনিস অনেক কম দামে পাওয়া যায়।”
তবে শুধু পোশাকই নয়, বালুরঘাটের তহবাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়েও বসেছেন বহু ব্যবসায়ী। এক ব্যবসায়ীর কথায়, “প্রয়োজনের শেষ নেই, তাই কেনাকাটারও শেষ নেই। চৈত্র সেলের সময় ক্রেতারা বেশি আগ্রহ দেখান, কারণ সারা বছরের তুলনায় এই সময়ে দাম কিছুটা কম থাকে।”
তবে ছোট ব্যবসায়ীরা এবছরের চৈত্র সেলে কিছুটা হতাশ। রেডিমেড পোশাক বিক্রেতা রঞ্জিত সরকারের অভিযোগ, “শহরে একাধিক শপিং মল গড়ে ওঠায় ক্রেতারা সেদিকেই ঝুঁকছেন। ফলে আমাদের ব্যবসা আগের মতো হচ্ছে না। দু’-তিন বছর আগেও দোকানে এত ভিড় থাকত যে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ত। কিন্তু এখন সারাদিনে ১০ জন ক্রেতাও আসেন না।” ব্যবসায়ী মহাদেব হালদার বলেন, “ছোট শহরে একের পর এক শপিং মলের আউটলেট তৈরি হওয়ায় চৈত্র সেলের বাজার কমেছে। তবে শেষ দশদিনে ভালো বিক্রির আশা করছি।”
এদিকে, সামনেই পয়লা বৈশাখ। তাই যত দিন যাবে, বাজারে ক্রেতাদের ভিড় আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
বাইট সাধারণ ক্রেতা এবং বিক্রেতা
Leave a Reply