দিঘা-পূর্ব মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা :- দিঘার হোটেলে উদ্ধার হল এক মহিলা পর্যটকের ঝুলন্ত দেহ। তবে আশ্চর্যের বিষয় হল, ওই মহিলাকে ঝুলন্ত অবস্থায় ফেলে রেখে হোটেল থেকে বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে তাঁর সঙ্গীরা। পরে তারাই আবার হোটেলে ফোন করে মহিলার মৃত্যুর খবর জানিয়েছে। খবর পেয়ে মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে দিঘা থানার পুলিশ। এই ঘটনায় পর্যটন শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত মহিলার নাম চুমকি দাস অধিকারী (২৪)। তিনি ওল্ড মালদার ফুলবাড়ি এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার নিউ দিঘার একটি হোটেলের দুটি ঘর ভাড়া নেয় ৪ পর্যটক। যার মধ্যে ছিলেন দুই পুরুষ ও দুই মহিলা। দু’দিন ধরে তাঁরা দিঘায় রীতিমতো আনন্দ করেই কাটিয়েছেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরের দিকে কাউকে না জানিয়েই এদের মধ্যে দুই পুরুষ ও এক মহিলা হোটেল ছেড়ে পালিয়ে যায়। এই বিষয়ে হোটেল কর্মীরা কিছুই টের পাননি। এরপর বেলার দিকে ওই পর্যটকরা হোটেলের রিসেপসানে ফোন করে জানায় একজন মহিলা হোটেলের ঘরে মৃত অবস্থায় রয়েছেন।
খবর পেয়ে দিঘা থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয় হোটেলের তরফ থেকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে হোটেলের ঘর থেকে মহিলার ঝুলন্ত মৃত দেহটিকে উদ্ধার করে। সেই সময় হোটেলের ঘরটি ভেতর থেকে বন্ধ ছিল বলে পুলিশ সূত্রে খবর। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, কিছু বিষয় নিয়ে নিজেদের মধ্যে অশান্তি হয়েছিল। এরপরেই এক মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। তবে এই ঘটনার পরেই মহিলার সঙ্গীরা সুযোগ বুঝে হোটেল ছেড়ে পালিয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের তরফ থেকে মৃতার পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার মৃত দেহটি কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে মহিলার সঙ্গীদের সন্ধানেও তল্লাশি শুরু হয়েছে।
কন্টাইয়ের এসডিপিও দিবাকর দাস জানিয়েছেন, “দিঘার হোটেলে মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। মৃতদেহটিকে উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দেহ ময়না তদন্তের পর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে এই ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে”।
Leave a Reply