হুগলি, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শ্রাবণ মাসের তৃতীয় শনিবারে কালীঘাট থেকে তারকেশ্বর অভিমুখে পদযাত্রায় পা মিলিয়েছেন হাজারো তীর্থযাত্রী। ঐতিহ্য মেনে তাঁরা ৪২ মাইলের দীর্ঘ পথ অতিক্রম করছেন শেওড়াফুলি হয়ে। সেই পথে ধর্ম ও মানবতার অপূর্ব মেলবন্ধনের সাক্ষী রইল শেওড়াফুলি।
এই দিন, শেওড়াফুলির পথে পথে দেখা গেল তরুণ যুবকদের উৎসর্গ। সারারাত ধরে তারা নানা পদের খাবার, পানীয় জল এবং বিশ্রামের ব্যবস্থা করে তীর্থযাত্রীদের সেবা করলেন ভক্তিভরে। কারও হাতে ছিল পায়েস, কেউ দিচ্ছেন খিচুড়ি, কারও সামনে সাজানো বাতাসা, ফলমূল ও ঠান্ডা শরবত। কাঁধে গামছা, চোখে শ্রদ্ধা — এমন দৃশ্য যেন বারবার প্রমাণ করে দেয়, ধর্ম কেবল পূজার ঘরে নয়, সে জেগে থাকে মানুষের সেবায়।
তীর্থযাত্রীদের মধ্যে এক প্রবীণ ব্যক্তি বললেন, “প্রতি বছরই আমরা হাঁটি, কিন্তু শেওড়াফুলির মানুষ যেভাবে আমাদের আপ্যায়ন করে, তা হৃদয় ছুঁয়ে যায়।”
এই উদ্যোগ কেবল ধর্মীয় অনুশীলনের অংশ নয়, বরং এক সামাজিক সংহতির নিদর্শন হিসেবেও উঠে আসে। যুবকদের মধ্যে কেউ কেউ বলেন, “ভগবানের খোঁজে যারা হাঁটছেন, তাঁদের সেবা করাই আমাদের প্রকৃত সাধনা।”
এইরকম মানবিক প্রচেষ্টা যেন ভবিষ্যতেও চলতে থাকে, এমনটাই কামনা করছেন এলাকাবাসী। শেওড়াফুলির এই উৎসর্গ মন ছুঁয়ে গেল বহু পথচলতি তীর্থযাত্রী ও দর্শনার্থীর হৃদয়।
শেষ কথা – শ্রাবণের শ্রদ্ধা, সেবায় জীবন্ত হয়ে উঠল শেওড়াফুলি।
খিচুড়ি-পায়েস-শরবতে ভরে উঠল পথ, তীর্থযাত্রীদের হৃদয় জয় করল শেওড়াফুলির যুবসমাজ।












Leave a Reply