নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদা:- বাংলাদেশী বলে হুমকি। আতঙ্কে দিল্লি থেকে কাজ ছেড়ে চলে এসে ছিলেন বিনোদ। কিন্তু সামনেই ছিল মেয়ের বিয়ে। কাজের যে টাকা পেতেন তাও আনতে পারেন নি। বিয়ের আয়োজন কার্যত অসম্ভব হয়ে দাড়িয়ে ছিল। সেই সময় খবর পেয়েই বিয়ের সমস্ত আয়োজনের দায়িত্ব নিয়ে নিলেন তৃণমূলের স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য। ধুমধামের সঙ্গেই এক হল চার হাত। মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর ২ নম্বর ব্লকের শামুখা গ্রাম। পিছিয়ে পড়া প্রত্যন্ত এলাকা। বেশির ভাগ লোক পরিযায়ী শ্রমিক। এই এলাকার বাসিন্দা বিনোদ ঋষি। বাড়িতে রয়েছে স্ত্রী বৃদ্ধ বাবা মা, দুই মেয়ে এবং এক ছেলে।দিল্লিতে ঠিকাদারের অধীনে চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। জরাজীর্ণ ভগ্নপ্রায় বাড়ি। বাইরে কাজ করে যা উপার্জন করতেন তা দিয়ে কোন মতে চলতো সংসার।বড় মেয়ের বিয়ে ঠিক করে ছিলেন। ভেবে ছিলেন একটু বেশি কাজ করে টাকা উপার্জন করে বিয়ের আয়োজন করবেন। কিন্তু তার মাঝেই দিল্লিতে পরিস্থিতি বদলে যায়। বাংলাভাষীদের ওপর আক্রমণ নেমে আসে। আতঙ্কে বিনোদ কাজ ছেড়ে চলে আসে। যে টাকা পেতেন তাও আনতে পারেন নি। পড়ে যান বিপাকে। এদিকে এগিয়ে আসছিল মেয়ের বিয়ের তারিখ। ভেবে ছিলেন হয়তো পারবেন না বিয়ে দিতে। স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য বুলবুল খান জানতে পারেন এই দুর্দশার কথা। পরিবারের সঙ্গে দেখা করে তিনি জানান বিয়ের সমস্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন তিনি করবেন। সেই মতো সব ব্যবস্থা করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে চার হাত এক হয়।প্রবল বৃষ্টি এবং শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও নিজের সহযোগী বন্ধুদের নিয়ে বিয়েতে অংশ গ্রহণ করে ধুমধাম করে বিয়ে দেন বুলবুল। ফুটে ওঠে সম্প্রীতির বার্তা। দেশজুড়ে বাঙালিদের উপর আক্রমণ নিয়ে সরব হন তিনি। এই পরিস্থিতিকে ভয়াবহ পরিস্থিতি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন মমতা ব্যানার্জি সন্তান স্নেহে সকলকে আগলে রাখছেন। সেই অনুপ্রেরণাতেই তিনি এই পরিবারগুলোর পাশে আছেন।












Leave a Reply