দীপাবলি ও ছটপুজোয় বিশেষ উদ্যোগে আদ্রা ডিভিশন — যাত্রীদের জন্য ৩৬টি স্পেশাল ট্রেন চালু, নিরাপত্তায় জোর রেলের।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর:- উৎসবের মরশুমে বাড়তি ভিড় সামাল দিতে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশন বিশেষ পরিকল্পনা নিয়েছে। দীপাবলি ও ছটপুজো উপলক্ষে মোট ৩৬টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার যাত্রীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন। ইতিমধ্যেই রেল কর্তৃপক্ষের তরফে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে।

শুক্রবার আদ্রা ডিভিশনের আধিকারিকরা ১৮১৮৩ টাটা–দানাপুর এক্সপ্রেসে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সুবিধা-অসুবিধা, পরিষেবা সংক্রান্ত মতামত ও পরামর্শ নেন। এদিন উপস্থিত ছিলেন আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম মুকেশ গুপ্তা, সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার বিকাশ কুমার সহ একাধিক আধিকারিক। যাত্রীরা রেল পরিষেবা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বলেন, গত কয়েক বছরে রেলযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে।

আদ্রা ডিভিশনের ডিআরএম মুকেশ গুপ্তা বলেন,

“রেল প্রশাসন যাত্রীদের আরামদায়ক, নিরাপদ ও সুষ্ঠু ভ্রমণ অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপ বিবেচনায় আমরা যাত্রী সুবিধা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়েছি।”

দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আদ্রা, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, বোকারো ও চান্ডিল প্রভৃতি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে থামবে স্পেশাল ট্রেনগুলি। এসব ট্রেন তিরুপতি, পাটনা, ভুবনেশ্বর, পোডনুর–কোয়েম্বাটুর, গোরখপুর ও আনন্দবিহার পর্যন্ত চলবে।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সারা দেশে ভারতীয় রেল এই বছর ১২,০০০-রও বেশি পুজো স্পেশাল ট্রেন চালাচ্ছে, যেখানে গত বছর সংখ্যা ছিল ৭,৭২৪টি। উৎসবকেন্দ্রিক যাত্রার চাপ সামাল দিতে এবার প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি স্পেশাল ট্রেন চালানো হচ্ছে

যাত্রীদের সুবিধার্থে প্রধান স্টেশনগুলিতে স্থাপন করা হয়েছে ডিজিটাল তথ্য বোর্ড, সহায়ক কাউন্টার ও গাইডেন্স স্টাফ। পাশাপাশি, যাত্রী নিরাপত্তায় নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা — আরপিএফ ও জিআরপি বাহিনী, ডগ স্কোয়াড ও বম্ব স্কোয়াড মোতায়েন রয়েছে। আতসবাজি, দাহ্য পদার্থ বা সন্দেহজনক বস্তু যাতে ট্রেনে বহন করা না যায়, তার জন্যও বিশেষ নজরদারি চলছে।

উৎসবের এই মৌসুমে রেলের উদ্যোগে যাত্রীদের মধ্যে আশা ও নিরাপত্তার বার্তা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর আদ্রা ডিভিশন। যাত্রীদের মুখেই শোনা গেল—

“এমন পরিষেবা যদি সারা বছর থাকত, তাহলে ট্রেনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হতো।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *