নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর:- রামনগর বিধানসভা কেন্দ্র ধরে রাখতে কি এবার বিকল্প মুখের কথা ভাবছে তৃণমূল কংগ্রেস? সম্প্রতি দলবিরোধী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার অভিযোগে তিন কর্মীকে শো–কজ় নোটিস দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। যদিও জেলা নেতৃত্ব বিষয়টিকে নিছক জল্পনা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রামনগর এলাকায় তৃণমূলের সর্বজনগ্রাহ্য প্রার্থী নির্বাচনই বড় চ্যালেঞ্জ। শাসক দলের অন্দরে ‘ভূমিপুত্র বনাম বহিরাগত’ বিতর্ক ফের মাথাচাড়া দিয়েছে। দলের একাংশের অভিযোগ, বিগত কয়েক বছরে পটাশপুরের বিধায়ক উত্তম বারিক ও রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ক্রমেই প্রকট হয়েছে। তারই প্রভাবে প্রার্থী নিয়ে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
রামনগরের চারবারের বিধায়ক অখিল গিরি তৃণমূলের অন্যতম প্রবীণ নেতা। ২০০১ সালে প্রথমবার এই কেন্দ্র থেকে জেতেন, ২০০৬-এ হেরে গেলেও ২০১১ থেকে পরপর তিনবার জয়ী হয়েছেন। কাঁথির বাসিন্দা হয়েও রামনগরে তাঁর প্রভাব রয়েছে। তবু একাংশের দাবি, ক্রমবর্ধমান গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে ভোটে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিকল্প মুখ খোঁজার কথা ভাবছে দল।
রাজনৈতিক সূত্রে খবর, সম্ভাব্য বিকল্প প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন কলকাতার এক প্রকাশক ও এক প্রাক্তন আমলা — যাঁদের মধ্যে একজন রামনগরেরই বাসিন্দা। তবে তৃণমূলের জেলা নেতৃত্ব এই খবরকে গুজব বলেই উড়িয়ে দিয়েছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তৃণমূলের এক ব্লক নেতা বলেন, “দলই প্রার্থী ঠিক করবে। ভূমিপুত্র না বহিরাগত— এই তত্ত্ব বিরোধীদের বানানো। মানুষ ভোট দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখে।” জেলা পরিষদের এক সদস্যের দাবি, “বিতর্ক থাকলেও রামনগরে তৃণমূলই জিতবে। প্রার্থী নয়, দলই আসল শক্তি।”
কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি পীযূষ পন্ডা বলেন, “প্রার্থী নিয়ে এখনই কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। বিরোধীরা পরিকল্পিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।”
অখিল গিরি নিজেও বলেন, “দল দায়িত্ব দিয়েছে, আমি পালন করেছি। ভবিষ্যতে কে প্রার্থী হবে, সেটা দলের সিদ্ধান্ত।”
অন্যদিকে উত্তম বারিকের মন্তব্য, “গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে কিছু নেই। দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।”
তৃণমূলের এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিজেপি কটাক্ষ করেছে। কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সোমনাথ রায়ের বক্তব্য, “ওদের দলে সবাই নামমাত্র নেতা, সিদ্ধান্তের ক্ষমতা কারও হাতে নেই।”
📰 সারমর্ম:
রামনগরে পরবর্তী বিধানসভা ভোটকে সামনে রেখে তৃণমূলের অন্দরে চলছে নতুন প্রার্থী নিয়ে আলোচনা। তবে নেতৃত্বের দাবি— এসব বিরোধীদের কৌশল মাত্র। এখন দেখার, ২০২৬-এর নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত দলের ভরসা কার উপর পড়ে।












Leave a Reply