মুরালিগঞ্জ, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিনিময়ের এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী থাকল মুরালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ঘুরে স্পেনের পর এই দিন বিদ্যালয় পরিদর্শনে এলেন জার্মান বিজেজে কোচ মিকো হাইটোনেন। মিকোর আগমন উপলক্ষ্যে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রধান শিক্ষকের উদ্যোগে তৈরি হয় এক উৎসবের আবহ।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম-এর নেতৃত্বে মিকো হাইটোনেনকে গেট থেকেই সসম্মানে বরণ করে নেওয়া হয়। ফুল মালা পরিয়ে, বাজনার তালে তালে তাঁকে প্রধান শিক্ষকের কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। বিদ্যালয়ের এই উষ্ণ আতিথেয়তায় অভিভূত হন জার্মান কোচ।
প্রধান শিক্ষকের কক্ষে মিকো দীর্ঘ সময় ধরে শামসুল আলমের সঙ্গে ইংরেজিতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সারেন। এরপর তিনি বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের সামনে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা দিক তুলে ধরেন। ছাত্রছাত্রীরাও সাবলীল ইংরেজিতে একাধিক প্রশ্ন করে মিকোর সঙ্গে কথোপকথন চালিয়ে যায়। এই আন্তর্জাতিক মিথস্ক্রিয়াটি শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদ শামসুল আলম।
বিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ পরিকাঠামো ঘুরে দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন মিকো। তাঁকে এদিন বাংলার ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন বিধাননগরের রসগোল্লা এবং আনারসের জুস দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়, যা তিনি যথেষ্ট উপভোগ করেন। বিদায়ের আগে মিকো বিদ্যালয়ের দীর্ঘ আয়ু কামনার পাশাপাশি প্রধান শিক্ষক শামসুল আলমের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল কামনা করেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাঁকে একাধিক মূল্যবান উপহার সামগ্রী দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
এই পরিদর্শনের তাৎপর্য তুলে ধরে মুরালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামসুল আলম সংবাদ মাধ্যমকে জানান, “বিশ্বের একাধিক দেশ থেকে মানুষ আমাদের এই স্কুলে পরিদর্শনে আসছেন। এর ফলে আমাদের ছাত্রছাত্রীরা ইংরেজিতে সরাসরি কথোপকথন করার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ পাচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রে এমন ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অত্যন্ত দরকারি।”
মিকো হাইটোনেনের আগমনে পুরো স্কুল চত্বরে দিনভর আনন্দের মহল বজায় ছিল। এই ধরনের আন্তর্জাতিক আদান-প্রদান মুরালিগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়কে বিশ্ব দরবারে আরও পরিচিত করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।












Leave a Reply