মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:— উড়িষ্যায় বাংলায় কথা বলার ‘অপরাধে’ বাংলাদেশি সন্দেহে মারধরের শিকার মালদহের বৈষ্ণবনগর বিধান সভার এক যুবক।ওই পরিবারের পাশে দারালেন SDPI পাটির সদস্যরা। উড়িষ্যায় কাজে গিয়ে শুধুমাত্র বাংলায় কথা বলার কারণে বাংলাদেশি সন্দেহে নির্মম অত্যাচার করে মারধরের শিকারের অভিযোগ।মালদহের বৈষ্ণবনগরের বাসিন্দা আকিউর রহমান (১৯)। তিনি পেশায় ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক, সেখানে রাজমিস্ত্রি কাজ সূত্রে বেশ কয়েকদিন ধরেই উড়িষ্যায় অবস্থান করছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আকিউর রহমান তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর সঙ্গে কর্মস্থলে থাকার সময় উড়িষ্যায় স্থানীয় একদল দুষ্কৃতী তাঁদের কথোপকথন শুনে বাংলাদেশি সন্দেহ করে। এরপর তারা আকিউর ও তাঁর সহকর্মীদের কাছে পরিচয়পত্র দাবি করে। ভারতীয় বৈধ পরিচয়পত্র দেখানো হলেও তা মানতে অস্বীকার করে দুষ্কৃতীরা এবং আকিউর রহমানকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এই হামলায় আকিউরের হাত-পা সহ শরীরের একাধিক জায়গায় গুরুতর আঘাত লাগে। আহত অবস্থায় তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা দ্রুত তাঁকে উড়িষ্যার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা চলার পর তাকে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তাঁকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়।পরিবার রয়েছে চার ভাই এক বোন।
বর্তমানে আকিউরের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনার খবর পেয়ে তার বাড়িতে যায় SDPI পাটির বৈষ্ণবনগর বিধানসভার সভাপতি মাসুদ রানা সহ দলের অন্যান্য সদস্যরা আকিউর রহমানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাঁরা পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ভবিষ্যতে সবরকম সহযোগিতা ও পাশে থাকার আশ্বাস দেন। এদিকে, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন SDPI পাটির সভাপতি
মাসুদ রানা, তিনি বলেন, “দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে কাজ করতে গিয়ে শুধুমাত্র ভাষার কারণে কাউকে এভাবে হেনস্তা সহ মারধর করা অত্যন্ত লজ্জাজনক ও মানবাধিকার বিরোধী। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।”
এই ঘটনা আবারও দেশের ভেতর পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছেন।












Leave a Reply