দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বালুরঘাট ব্লকের গোপালবাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত হরিগ্রাম প্রাইমারি স্কুলে নতুন হলঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল এলাকায়। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ চলছে—এই অভিযোগ তুলে গতকাল থেকে একজোট হয়ে কাজ বন্ধ করে দেন গ্রামবাসীরা। অভিযোগের জেরে গত রাতে ঠিকাদার এলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে বচসা হয় এবং আজ সকালেও ফের গ্রামবাসীরা একত্রিত হয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হলঘর নির্মাণে গুরুতর অনিয়ম হচ্ছে। গ্রামবাসী সুব্রত সরকার, বুলাই ঘোষ, সঞ্জিত ঘোষ, রাকেশ ঘোষ, তপন বর্মণ-সহ বহু বাসিন্দা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজের স্থানে প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য সম্বলিত বোর্ড থাকার কথা থাকলেও এখানে কোনও বোর্ড লাগানো নেই। শুধু মুখে মুখে শোনা যাচ্ছে, হলঘর নির্মাণে প্রায় বাইশ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। কিন্তু সেই টাকার যথাযথ ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজে সিমেন্টের ভাগ কম দেওয়া হচ্ছে। এছাড়াও ষোলোর রডের পরিবর্তে বিভিন্ন জায়গায় বারোর রড ব্যবহার করা হয়েছে। আরও গুরুতর অভিযোগ, বহু রড নাকি পুরোনো বিল্ডিং থেকে খুলে এনে এই নির্মাণকাজে লাগানো হচ্ছে। গ্রামবাসীদের দাবি, এতে ভবিষ্যতে হলঘরটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
গ্রামবাসী সুব্রত সরকার বলেন, ‘বোর্ড কেন লাগানো নেই এবং কেন বারোর রড ও পুরোনো রড ব্যবহার করা হচ্ছে—এই প্রশ্ন তুলতেই ঠিকাদারি সংস্থার লোকজন আমাদের মারধরের হুমকি দিচ্ছেন। বলছেন, পরে দেখে নেবেন। এই স্কুলের হলঘরে আমাদের গ্রামের শিশুরাই পড়াশোনা করবে। নিম্নমানের কাজ হলে বিপদে পড়বে আমাদের বাচ্চারাই।’
গ্রামবাসীদের আরও অভিযোগ, কাজ বন্ধ করায় ঠিকাদারি সংস্থার তরফে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকায় ক্ষোভ আরও বেড়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছেন গ্রামবাসীরা।
এই প্রসঙ্গে বালুরঘাট ব্লকের বিডিও সোহম চৌধুরি জানান, ‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে হরিগ্রামের মানুষ।












Leave a Reply