দুই বছর বয়সেই প্রতিভার ঝলক, পাঁচ বছরে রেকর্ড গড়ে তাক লাগাল বালুরঘাটের নায়্যার।

বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা:- বালুরঘাট শহর যেন আবারও গর্বে উজ্জ্বল। কারণ এই শহরেরই এক খুদে শিশু আজ তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যকে, এমনকি দেশকেও। যার কৃতিত্ব আজ স্থান পেয়েছে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ড সে। নাম তার KH NAYYAR বয়স মাত্র পাঁচ বছর, অথচ কৃতিত্ব এমন যে বড়রাও থমকে যাবেন।
ঘটনার শুরু আজ থেকে প্রায় তিন বছর আগে। তখন নায়্যার-এর বয়স মাত্র দুই। সেই ছোট্ট বয়সেই সে অনায়াসে ১০ থেকে ১ পর্যন্ত ব্যাক কাউন্টিং করতে পারত। কিন্তু তখন বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্বদেননি বাবা-মা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বয়স বাড়ে, আর বাড়তে থাকে শিশুটির বিস্ময়কর ক্ষমতাও।
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন নায়্যার-এর মা একটি অপারেশনের জন্য ওটিতে যান। সেই সময় হাসপাতালের ওটির বাইরে বসে ছোট্ট নায়্যার হাজার থেকে এক পর্যন্ত একটানা ব্যাক কাউন্টিং করতে থাকে। তার একটাই আশা মা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন। শিশুটির এই অদ্ভুত কিন্তু হৃদয়ছোঁয়া আচরণ বাবার নজরে আসে। পরে মা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার পর গোটা বিষয়টি পরিবারে আলোচনা হয়। এরপর বাবা-মা সিদ্ধান্ত নেন, ছেলের এই অসাধারণ প্রতিভাকে সকলের সামনে তুলে ধরবেন। একটি ভিডিও রেকর্ড করে তা পাঠানো হয় ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস-এ। সেখানেই চমকপ্রদ তথ্য উঠে আসে ১০০ থেকে ১ পর্যন্ত লিখে ব্যাক কাউন্টিং করতে সময় লাগে মাত্র ৪ মিনিট ২৮ সেকেন্ড। ১০০ থেকে ১ পর্যন্ত মুখে বলতে সময় লাগে মাত্র ৫৮ সেকেন্ড
১০০ থেকে ১ পর্যন্ত উল্টো গুনতি করা মোটেই সহজ কাজ নয়, বিশেষ করে এই বয়সে। অথচ এক নিমিষেই তা করে দেখিয়েছে বালুরঘাটের এই খুদে প্রতিভা। এই প্রতিভা স্থান পায় ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসে। নায়্যার-এর বাবা KH MD Hafizul Islam এবং মা Sufia Kamal ছেলের এই সাফল্যে ভীষণ খুশি ও গর্বিত। তাঁদের বক্তব্য, তাঁরা কখনওই ছেলেকে আলাদা করে চাপ দেননি বা বিশেষ প্রশিক্ষণ করাননি। বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছ থেকেই যতটুকু পড়াশোনা শিখেছে, তাতেই এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে নায়্যার। আগামী দিনে ছেলেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করার পরিকল্পনা রয়েছে বাবা-মায়ের। ছোট্ট নায়্যার-এর এই সাফল্য প্রমাণ করে দিল—প্রতিভা বয়স মানে না। আর বালুরঘাট পেল আরও এক নতুন গর্বের নাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *