ধূপগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা :- সময় থেমে নেই, কিন্তু একটি বাড়িতে আজও থমকে আছে অপেক্ষা। ২৩ বছর ধরে একমাত্র ছেলের বাড়ি ফেরার আশায় পথ চেয়ে বসে আছেন এক মা। চোখে ঘুম নেই বাবারও। নিঃশব্দ কান্না আর বুকভরা হাহাকার নিয়েই প্রতিদিন দিন গুনছেন ধূপগুড়ির গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েতের চড়চড়া বাড়ি এলাকার দোমাসু বর্মন ও যশোদা বর্মন।
ঘটনাটি আনুমানিক ২০০৩ সালের। জলঢাকা নদীর বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়েছিল গোটা এলাকা। অভাবের তাড়নায় পাড়ার আরও কয়েকজন কিশোরের সঙ্গে মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে গুজরাটে পাড়ি দেয় দীপক বর্মন—দোমাসু ও যশোদা বর্মনের একমাত্র ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী এলাকার এক ঠিকাদারের সঙ্গে মোট পাঁচজন কিশোর গুজরাটে কাজ করতে গিয়েছিল। কাজ ঠিকমতো না মেলায় কয়েকজন কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরে এলেও দীপক আর ফেরেনি।
শুরুর এক-দেড় বছর মাঝে মাঝে ছেলের সঙ্গে ফোনে কথা হতো বলে জানান বাবা দোমাসু বর্মন। কিন্তু তারপর হঠাৎ করেই সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
দুঃখের বিষয়, বন্যার সময় পরিবারের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র ভেসে যায়। এমনকি দীপকের একটি মাত্র পুরনো ছবিও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে প্রশাসনের কাছে সঠিকভাবে অভিযোগ বা খোঁজের আবেদন জানানো সম্ভব হয়নি। তবুও আত্মীয়স্বজন, পরিচিত সূত্র ধরে বহুবার খোঁজ চালানো হলেও কোনও সন্ধান মেলেনি।
বছরের পর বছর পেরিয়ে গেছে। আশা ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়েছে। তবু আজও প্রতিটি দিন শুরু হয় একটাই প্রশ্ন নিয়ে—“আজ কি ছেলের খবর আসবে?”
বাড়িতে গেলে দেখা যায়, মা যশোদা বর্মনের চোখে ক্লান্তি আর গভীর শূন্যতা। বাবার চোখে চাপা কষ্ট। যেন সময়ের সঙ্গে জমে উঠেছে এক দীর্ঘশ্বাস।
পরিবারের একটাই আর্জি—
এই খবর যদি দীপক বর্মন নিজে দেখেন, অথবা কেউ তাঁকে চেনেন—দয়া করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
একটি ফোন কলই বদলে দিতে পারে দুটি বৃদ্ধ মানুষের জীবন।
👉 আমরা সকলের কাছে অনুরোধ করছি, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে এই খবরটি যতটা সম্ভব শেয়ার করুন।
হয়তো আপনার শেয়ারই ২৩ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।
২৩ বছর ধরে ছেলের ফেরার অপেক্ষায় মা—বাবা, একটুখানি আশার খোঁজে ধূপগুড়ির বর্মন পরিবার।












Leave a Reply