কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকালে পশ্চিমবঙ্গ মাধ্যমিক শিক্ষা পর্ষদের (WBBSE) পরিচালিত মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হতেই দক্ষিণ কলকাতার সন্তোষপুর ঋষি অরবিন্দ বিদ্যাপীঠের বাইরে ঘটে যায় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি।
সকাল আনুমানিক ১০টা ০৫ মিনিট নাগাদ সার্ভে পার্ক থানার একটি টহলদারি দল পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে এক উদ্বিগ্ন ছাত্রকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। ওই ছাত্রের নাম প্রিয়াংশু প্রসাদ। ইংরেজি পরীক্ষার জন্য সে পরীক্ষাকেন্দ্রে এলেও সঙ্গে আনতে ভুলে যায় তার অ্যাডমিট কার্ড। ফলে পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার অনুমতি মিলছিল না।
মেধাবী ছাত্র প্রিয়াংশু বরাবরই নিজের ক্লাসে প্রথম হয়ে এসেছে। তার পরিবার অত্যন্ত সাধারণ। বাবা পেশায় রিকশাচালক এবং মা সবজি বিক্রি করেন। প্রতিবেশী রত্না নস্করের সঙ্গে সে গণপরিবহণে করেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেছিল। এই পরীক্ষাই ছিল তার পরিবারের বহু ত্যাগ ও স্বপ্নের ফল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। সার্জেন্ট ডেভিড টপনো সোনারপুরে গিয়ে অ্যাডমিট কার্ড আনতে রওনা দেন। একই সঙ্গে যানজট এড়িয়ে দ্রুত যাতায়াতের জন্য ট্রাফিক পুলিশ গ্রিন করিডোর তৈরি করে দেয়। প্রায় ১৫ কিলোমিটার যাতায়াত শেষ করে পরীক্ষার দরজা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে ফিরে আসেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত সময়মতো পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারে প্রিয়াংশু। পুলিশের মানবিক উদ্যোগ দেখে অভিভাবক ও উপস্থিত মানুষজন করতালিতে ফেটে পড়েন। অনেকেই কলকাতা পুলিশের এই মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করেন।












Leave a Reply