দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পতিরামের বর্ষাপাড়া এলাকার এক অসহায় শিশুকন্যার জীবনে জন্মলগ্ন থেকেই নেমে এসেছে কঠিন বাস্তবতা। জন্মের দিনেই মাকে হারানো শিশুটির বাবা কার্যত তার দায়িত্ব এড়িয়ে চলায়, শুরু থেকেই সে আশ্রয় পেয়েছে পিসির কাছে। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেও পিসিই শিশুটির লালন-পালনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
করোনাকালীন সময়ে শিশুটির জন্মের পর থেকেই টানা ছয় মাস পতিরাম নাগরিক ও যুব সমাজের উদ্যোগে তার জন্য নিয়মিত খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়। বাজারজাত প্যাকেটজাত দুধসহ প্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহ করা হয় সংগঠনের তরফে। ছয় মাস পূর্ণ হলে মানবিকতার নজির গড়ে সংগঠনের উদ্যোগেই ধুমধাম করে শিশুটির অন্নপ্রাশন অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারটির সমস্যাও বেড়েছে। শিশুটির পিসির আর্থিক অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। তার ওপর শিশুটির বাবা মাঝেমধ্যেই পিসির ওপর মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার চালান বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতিতে কিছুদিন আগে পিসি গুরুতর মানসিক সংকটে ভেঙে পড়েন। খবর পেয়ে গত ডিসেম্বর মাসে পতিরাম নাগরিক ও যুব সমাজ এগিয়ে এসে চালসহ বিভিন্ন রেশন সামগ্রী দিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।
এরপর সংগঠনের পক্ষ থেকে সারা বছরের জন্য চাল, ডাল, ডিম, তেল, সয়াবিনসহ প্রয়োজনীয় রেশন সামগ্রী দেওয়ার দায়িত্ব নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের জন্য নির্ধারিত খাদ্যসামগ্রী ইতিমধ্যেই শিশুটির বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, সমাজের সবচেয়ে অসহায় ও দুর্বল মানুষদের পাশে দাঁড়ানোই তাদের মূল লক্ষ্য। এই শিশুকন্যা ও তার পিসির ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে আগামীতেও তারা সর্বাত্মক সহযোগিতা চালিয়ে যাবেন।
পাশে থাকার অঙ্গীকার—বর্ষাপাড়ার অসহায় শিশুকন্যার পাশে পতিরাম নাগরিক ও যুব সমাজ।












Leave a Reply