মাধ্যমিকের মাঝেই মাইক-তাণ্ডব, জাতীয় পতাকার উপর দলীয় পতাকা—শালবনীতে শাসকদলের কর্মীসভা ঘিরে তীব্র বিতর্ক।

শালবনী, পশ্চিম মেদিনীপুর | নিজস্ব সংবাদদাতা:- আইন থাকুক আইনেই—শাসকদলের দাপট থাকুক রাজপথে! এমনই বার্তা যেন প্রকাশ্যে দিয়ে গেল শালবনী বিধানসভা এলাকায় আয়োজিত তৃণমূল কংগ্রেসের এক কর্মীসভা। যখন রাজ্যজুড়ে হাজার হাজার পড়ুয়া জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা মাধ্যমিক দিতে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ই সমস্ত বিধি-নিষেধকে কার্যত উপেক্ষা করে চড়া মাইক বাজিয়ে চলল শাসকদলের কর্মী সম্মেলন। অভিযোগ আরও গুরুতর—জাতীয় পতাকার উপরে দলীয় পতাকা টাঙিয়ে চরম অবমাননা করা হয়েছে, তাও আবার স্থানীয় বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্বের প্রকাশ্য উপস্থিতিতে।
🇮🇳 জাতীয় পতাকার উপরে দলীয় পতাকা!
সভাস্থলে দেখা যায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। ভারতের জাতীয় পতাকার উপরে স্থান দেওয়া হয় তৃণমূল কংগ্রেসের জোড়াফুল পতাকাকে। অথচ ‘ফ্ল্যাগ কোড অফ ইন্ডিয়া’ অনুযায়ী, জাতীয় পতাকার উচ্চতা সর্বদা অন্য সব পতাকার ঊর্ধ্বে থাকার কথা। অভিযোগ, এই স্পষ্ট আইনভঙ্গ চলাকালীন মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন শালবনীর বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো, যিনি একইসঙ্গে রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী, পাশাপাশি ছিলেন জেলা সভাধিপতি ও একাধিক জেলা স্তরের শীর্ষ নেতা। সচেতন মহলের প্রশ্ন—নেতৃত্বের চোখের সামনেই যদি জাতীয় পতাকার মর্যাদা লঙ্ঘিত হয়, তবে দায় নেবে কে?
🔊 মাধ্যমিকের সময় মাইক বাজিয়ে সভা
শিক্ষা পর্ষদের স্পষ্ট নির্দেশ—মাধ্যমিক পরীক্ষার সময় উচ্চস্বরে মাইক বাজানো নিষিদ্ধ। কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যত উপেক্ষা করেই শালবনী বিধানসভার বিভিন্ন প্রান্তে বসানো হয় শক্তিশালী সাউন্ড বক্স ও চং। চড়া সুরে চলতে থাকে মাইকের দাপট। অভিযোগ, এর ফলে চরম সমস্যায় পড়তে হয় পরীক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে।
এক অভিভাবকের ক্ষোভ,
“বিধায়ক, জেলা সভাধিপতি—সবাই মঞ্চে বসে ছিলেন। কিন্তু মাধ্যমিকের সময় মাইক বাজানো যে অন্যায়, সেই বোধটুকুও কি কারও নেই?”
⚖️ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
একই সভায় একাধিক বিধিভঙ্গের অভিযোগ সামনে আসতেই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও। বিরোধীদের দাবি,
“শাসকদলের নেতাদের দম্ভ ও প্রশাসনিক মদতের কারণেই আজ জাতীয় পতাকা এবং পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ—দুটোই উপেক্ষিত।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শালবনী বিধানসভা এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। সাধারণ মানুষ থেকে বিরোধী নেতৃত্ব—সকলেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, ক্ষমতার আস্ফালনে শাসকদল এখন দেশের সম্মান ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ—দুটোই উপেক্ষা করছে।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এই বিতর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে দায় স্বীকার বা ব্যাখ্যা দেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *