প্রাচীরহীন ১৪৬ মিটার এলাকা নিয়ে বিতর্ক, নিরাপত্তা জোরদারের আশ্বাস কর্তৃপক্ষের।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—- নিরাপত্তার অভাব গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় অভিযোগ ছাত্রছাত্রীদের। নিরাপত্তার জন্য উঁচু সীমানা প্রাচীর, লোহার বিশালাকার গেট রয়েছে। গেটে মোতায়ন নিরাপত্তা রক্ষীও। তবুও আঁধার নামলেই বহিরাগতদের প্রবেশ অবাধ হয়ে উঠেছে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের একাংশে সীমানা প্রাচীর না থাকার সুযোগ নিচ্ছে বহিরাগতরা। এরই মধ্যে জানুয়ারি মাসে মেয়াদ ফুরিয়েছে নিরাপত্তা রক্ষীর দায়িত্ব থাকা ঠিকাদার সংস্থার। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে শিক্ষক মহলে।

যদিও নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়নের জন্য দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে দাবি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তাঁদের দাবি, এখন বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপত্তা রক্ষী মোতায়ন করা হয়। উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য বলেন, “নিরাপত্তা রক্ষীর ব্যাপারে দরপত্র ডাকার প্রক্রিয়া চলছে। আর সীমানা প্রাচীর না থাকার ব্যাপারটি পূর্ত দফতরকে বলা হয়েছে। দফতরের তরফে পরিদর্শনও হয়েছে। দফতরের তরফে পরিকল্পনা তৈরি করে দেওয়া হলে তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেসরকারি ঠিকাদার সংস্থার অধীনে এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০জনেরও বেশি নিরাপত্তা রক্ষী রয়েছেন। জানুয়ারি মাসে নিরাপত্তা রক্ষী নিয়োগকারী বেসরকারী সংস্থার মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেও জানুয়ারির বেতন হয়নি, দাবি নিরাপত্তা রক্ষীদের। এমন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪৬ মিটার এলাকায় সীমানা প্রাচীর না থাকায় ছাত্রছাত্রীদের উদ্বেগ কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছে। অভিযোগ, উন্মুক্ত এলাকা দিয়ে বহিরাগতেরা ক্যাম্পাসে ঢুকে অসামাজিক কাজকর্ম চালাচ্ছে। তাতে ছাত্রছাত্রীদের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।
গত দেড় বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞাণ ভবনে ঢুকে এক ছাত্রীর উপরে ছুরি নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবিক বিভাগের প্রথম সিমেস্টারের ছাত্রী রিম্পা খাতুন বলেন, “দুপুর বেলায় উন্মুক্ত এলাকা দিয়ে বহিরাগত যুবকেরা ঢুকে পুকুরে মাছ ধরছে। সে চত্বরে নিরাপত্তা রক্ষীও থাকে না। সন্ধেয় পর্যাপ্ত আলো নেই। কর্তৃপক্ষের দ্রুত দেখা উচিত।” বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সজিকিউটিভ কাউন্সিল কমিটির সদস্য তথা তৃণমূলের কলেজ শিক্ষক সংগঠনের ওয়েবকুপার নেতা সনাতন দাস বলেন, “ঘটনাটি সত্যিই খুবই উদ্বেগের। আশা করছি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *