দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রত্যেক বছরের মতো এবারও আগামী ৮ মার্চ থেকে Balurghat-এ শুরু হতে চলেছে তিনশো বছরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যমণ্ডিত শ্রীশ্রী চঞ্চলা কালীমাতার পুজো।
লোককথা অনুযায়ী, বালুরঘাটের মাহিনগড়ের মহী রাজা প্রায় ৩০০ বছর আগে এই পুজোর সূচনা করেন। তবে রাজার মৃত্যুর পর একসময় পুজো বন্ধ হয়ে যায়। বহু বছর পরে এক ধার্মিক ব্রাহ্মণ পুরোহিত ওই থানের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় মা চঞ্চলার দর্শন লাভ করেন। দেবীর নির্দেশে তিনি পুনরায় পুজো শুরু করার উদ্যোগ নেন।
পুরোহিত নিজের আর্থিক অক্ষমতার কথা জানালে দেবী তাঁকে স্থানীয় জমিদার সুধীর চৌধুরীর কাছে যেতে বলেন। পরবর্তীতে সুধীর চৌধুরী মায়ের নির্দেশ পেয়ে পুজোর সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পুনরায় পুজো চালু হয়। সেই থেকেই আজও ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পুজো হয়ে আসছে।
সময়ের সঙ্গে পুরনো মন্দির সংস্কার করে নতুনভাবে মন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। পুজোর কিছু রীতিনীতিতেও পরিবর্তন এসেছে। বর্তমানে বছরে দু’বার পুজো অনুষ্ঠিত হয় এবং পুজো কমিটির উদ্যোগেই সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন হয়।
পুজো কমিটির সম্পাদক জানান, এই পুজোয় পাঠা বলির প্রথা নেই। আগে অন্নভোগের প্রচলন না থাকলেও বর্তমানে মায়ের উদ্দেশ্যে অন্নভোগ প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রতি অমাবস্যায় ভক্তদের জন্য অন্নভোগের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রতিবছর চঞ্চলা কালীমাতার পুজোকে কেন্দ্র করে ভক্তদের ভিড় উপচে পড়ে। মায়ের দর্শন ও ভোগ নিবেদনের পাশাপাশি এলাকায় বসে ঐতিহ্যবাহী ‘চঞ্চলা কালী মেলা’। কয়েকদিন ধরে চলা এই মেলাই আজ বালুরঘাট তথা সমগ্র জেলায় বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।
তিনশো বছরের ঐতিহ্য, ৮ মার্চ থেকে বালুরঘাটে শ্রীশ্রী চঞ্চলা কালীমাতার পুজো।












Leave a Reply