দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- ৩রা মার্চ, মঙ্গলবার সকালে বালুরঘাটের বিংশ শতাব্দী ক্লাব প্রাঙ্গণ রঙ, সুর এবং আবেগের এক অপূর্ব মিলনে প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। প্রতিবছরের মতো এবারও বিংশ শতাব্দী ড্রামা এন্ড কালচারাল ইউনিটের উদ্যোগে আয়োজিত হলো দোলযাত্রার এই রঙিন উৎসব। ইউনিটের কর্ণধার শিপ্রা বিশ্বাস এবং সঙ্গীত শিক্ষিকা সুতপা বসাকের পরিকল্পনা ও দক্ষ পরিচালনায় বসন্তের আগমন উদযাপনের এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে।
শান্তিনিকেতনের আবহে ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানিয়ে ইউনিটের শিক্ষার্থীরা উপস্থাপন করেন নৃত্য, সঙ্গীত এবং আবৃত্তির এক মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা। চল্লিশ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে নৃত্যের ছন্দ, সঙ্গীতের সুর এবং কবিতার আবৃত্তি বসন্তের প্রাণবন্ত আবহকে আরও জীবন্ত করে তোলে। উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের পরিবেশনা, যা বসন্তের সৌন্দর্য এবং আবেগকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়।
উৎসবের দিনটি যেন প্রকৃতি আর মানুষের মিলনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে ওঠে। বসন্তের হালকা মিষ্টি হাওয়া আর কোকিলের সুরেলা ডাক পুরো পরিবেশকে আরও মোহনীয় করে তোলে। গাছের নতুন পাতার সবুজ ছোঁয়া আর ফুলের রঙিন বাহার এই উৎসবকে প্রকৃতির সঙ্গে একাত্ম করে তোলে।
দর্শকরা রঙের খেলায় মেতে ওঠেন এবং সুরের আনন্দে নিজেদের ভাসিয়ে দেন। উৎসবে অংশগ্রহণকারী দর্শকরা জানান, এমন প্রাণবন্ত পরিবেশনা এবং আনন্দঘন মুহূর্ত তাদের মনে দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে যাবে। এক দর্শক বলেন, “এটা শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটা বালুরঘাটের সংস্কৃতির এক জীবন্ত উদযাপন।”
শান্তিনিকেতনের বসন্ত উৎসবের আবহকে বালুরঘাটের মাটিতে তুলে ধরে এই অনুষ্ঠান স্থানীয় সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রায় সমৃদ্ধ করেছে। এই প্রাণবন্ত উৎসব শুধুমাত্র বসন্তের আনন্দ উদযাপনেই সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক দক্ষতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করেছে।
শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই এই উৎসবের আনন্দঘন পরিবেশে নিজেদের মিশিয়ে এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা লাভ করেন। উৎসবমুখর এই দিনটি বালুরঘাটের সংস্কৃতির ইতিহাসে এক বিশেষ অধ্যায় হয়ে থাকবে।












Leave a Reply