সোনারপুর:দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এলাকায় দিনের আলোয় ঘটে গেল এক রোমহর্ষক ও রক্তাক্ত ঘটনা। একটি বিউটি পার্লারের ভেতরে পরকীয়াকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতের অভিযোগে গুরুতর জখম হলেন পার্লারের মালকিন এবং এক যুবক। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আহত মহিলার নাম রুপবানী দাস (পম্পা), বয়স আনুমানিক ৪৯ বছর। তিনি রাজপুর-সোনারপুর পৌরসভার রামকৃষ্ণনগর এলাকার বাসিন্দা এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি বিউটি পার্লার চালাতেন। প্রতিদিনের মতোই মঙ্গলবার সকালে নিজের পার্লার খুলেছিলেন তিনি। সকাল আনুমানিক সাড়ে এগারোটা নাগাদ এক যুবক পার্লারের ভেতরে প্রবেশ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কিছুক্ষণ পরই পার্লারের ভেতর থেকে তীব্র চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শোনা যায়। আশপাশের দোকানদার ও পথচারীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত পম্পার স্বামীকে খবর দেন। খবর পেয়ে তিনি তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছন।
অভিযোগ, পার্লারের কাচের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকতেই তিনি দেখেন, এক যুবক হাতে ধারালো ছুরি নিয়ে রুপবানী দাসের গলায় আঘাত করছে। মুহূর্তের মধ্যেই রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ওই মহিলা। পার্লারের ভেতর রক্তে ভেসে যায় মেঝে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পম্পার স্বামী ঝাঁপিয়ে পড়ে অভিযুক্ত যুবককে পাকড়াও করেন এবং তাকে টেনে হিঁচড়ে বাইরে নিয়ে আসেন।
বাইরে আনার পর দেখা যায়, ওই যুবকের গলাতেও গভীর ক্ষত রয়েছে। অনুমান করা হচ্ছে, মহিলাকে আঘাত করার পর সে নিজেও আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়রা তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ। গুরুতর আহত অবস্থায় রুপবানী দাস এবং ওই যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দু’জনেরই অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, পরকীয়ার সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে ঠিক কী কারণে এই রক্তাক্ত পরিণতি, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে এবং তার সঙ্গে মহিলার সম্পর্কের প্রকৃতি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
ঘটনার জেরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। দিনের বেলায় জনবহুল এলাকায় এমন নৃশংস ঘটনা ঘটায় আতঙ্কিত স্থানীয় বাসিন্দারা। পুলিশ জানিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই এই ঘটনার প্রকৃত কারণ সামনে আসবে বলেই আশাবাদী তদন্তকারীরা।
পার্লারের ভেতরে রক্তাক্ত দৃশ্য, আতঙ্কে এলাকা।।












Leave a Reply