হাতির করিডরে দেওয়াল! সোনাখালীতে তীব্র বিতর্ক।

ধূপগুড়ি, নিজস্ব সংবাদদাতা : বনদপ্তরের নাকের ডগার উপর ধূপগুড়ি মহকুমার চামড়াগুদাম এলাকায় সোনাখালী জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় রাতারাতি গড়ে উঠেছে একটি ‘অবৈধ’ নির্মাণ। হাতির চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ করিডরের একেবারে পাশে কীভাবে এই নির্মাণ কাজ চলছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনাখালী জঙ্গল থেকে কয়েক হাত দূরে এক ব্যক্তির ব্যক্তিগত জমি রয়েছে। সেই জমিতেই রাতারাতি উঁচু ও মোটা দেওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। প্রথমদিকে অন্য ধরনের কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে সেখানে রিসোর্ট বা হোমস্টে তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
প্রশ্ন উঠছে, জঙ্গলের এত কাছাকাছি এলাকায় কীভাবে এই নির্মাণ কাজ চলতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এর আগেও বনদপ্তরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও রাতের অন্ধকারে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে মালিকপক্ষ। এমনকি এলাকাবাসীরা বাধা দিতে গেলে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
গ্রামবাসীদের দাবি, হাতির চলাচলের পথে এভাবে উঁচু দেওয়াল তৈরি হলে বন্য হাতির স্বাভাবিক চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হবে। ফলে হাতির দল গ্রামে ঢুকে পড়ে তাণ্ডব চালানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কারণ নির্মাণস্থলের পাশেই রয়েছে একটি জনবসতিপূর্ণ গ্রাম।
এ প্রসঙ্গে মোরাঘাট রেঞ্জের রেঞ্জার চন্দন ভট্টাচার্য জানান, ব্যক্তিগত জমিতে কী কাজ হবে তা সরাসরি বনদপ্তর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না।

এই সোনখালী জঙ্গলের হাতির করিডর সংলগ্ন অন্য একটি ব্যক্তিগত জমিতে উঁচু দেওয়াল নির্মাণের কাজ বনদপ্তর আগেই বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন বনদপ্তরের বক্তব্য ছিল, হাতির করিডরে এ ধরনের উঁচু দেওয়াল নির্মাণ করা যাবে না।
ফলে প্রশ্ন উঠছে, বর্তমান ঘটনায় বনদপ্তর নীরব কেন?

সোনাখালী জঙ্গল ঘেঁষে এই নির্মাণকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন প্রাক্তন কেএলও সদস্যরাও। তাঁদের দাবি, যে ব্যক্তি নির্মাণ কাজ করছেন তিনি কলকাতার বাসিন্দা এবং এভাবেই উত্তরবঙ্গের বনজঙ্গল বহিরাগতদের দখলে চলে যাচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দেওয়াল ভেঙে না ফেলা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *