পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- সাত সকালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলারখড়গপুরে চা-চক্রে বসে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরব হলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার খারাপ আবহাওয়ার কারণে খড়গপুরের বাংলোতেই সাংবাদিক বৈঠক করেন তিনি। রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন ও সাম্প্রতিক ঘটনাবলি নিয়ে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত। অধীর চৌধুরীর গাড়িতে ধাক্কার ঘটনাকে ঘিরে দিলীপ ঘোষ বলেন, তিনি একজন অভিজ্ঞ ও বড় মাপের নেতা। অতীতে তাঁর গাড়িতে দুর্ঘটনার নজির রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই ধরনের ঘটনায় সতর্ক থাকা জরুরি এবং সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মত প্রকাশ করেন। রাজ্যে নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী বাড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে হিংসার রাজনীতি চলছে। তাঁর মতে, শুধু বাহিনী মোতায়েন করলেই হবে না। যারা সন্ত্রাস সৃষ্টি করে, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়, সেইসব দুষ্কৃতীদের আগে গ্রেফতার করা প্রয়োজন। তবেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকায় আস্থা রেখে দিলীপ ঘোষ বলেন, এবারে কমিশন দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। সংবেদনশীল এলাকায় কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। সুজাপুর ও কালিয়াচকের মতো এলাকায় তদন্তকারী সংস্থার পদক্ষেপের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এতে অন্যরাও সতর্ক হবে। রাজ্যে সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী সুরে তিনি বলেন, বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তন আনবে। নরেন্দ্র মোদী ও অমিত শাহ এর নেতৃত্বে দলীয় কর্মীরা জোরকদমে কাজ করছেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও পরিবর্তনের ইচ্ছা তৈরি হয়েছে। অমিত শাহর আসন্ন সফর প্রসঙ্গে তিনি জানান, তাঁর উপস্থিতি কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করে। খড়গপুরে তাঁর রোড শো ব্যাপক সাড়া ফেলবে বলেও আশা প্রকাশ করেন দিলীপ। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাষা নিয়ে সমালোচনা করে দিলীপ ঘোষ বলেন, এই ধরনের মন্তব্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে ক্ষতিকর। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
হলদিয়ায় বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, উত্তেজনাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশের কারণেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এই বিষয়ে পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ দাবি করেন তিনি। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পুলিশের নিরপেক্ষতা নিয়ে কমিশনে চিঠি দেওয়ার প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, চিঠি লিখে নির্বাচন জেতা যায় না। গত ১৫ বছরের শাসনের হিসাব জনগণের সামনে তুলে ধরতেই হবে।
অন্যদিকে, আসাম, পুদুচেরি ও কেরালার নির্বাচন নিয়ে আশাবাদী সুরে তিনি বলেন, আসাম ও পুদুচেরিতে বিজেপি জয়ের পথে রয়েছে এবং কেরালাতেও দল বড় শক্তি হিসেবে উঠে আসবে। সবশেষে, তৃণমূলের সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিয়ে কটাক্ষ করে দিলীপ ঘোষ বলেন, মরিয়া চেষ্টা চললেও পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।
পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আশায় আত্মবিশ্বাসী Dilip Ghosh।












Leave a Reply