ডবলু বি সি এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জয়েন্ট বিডিও হতে চলেছেন হোটেল কর্মচারীর ছেলে বছর ছাব্বিশের রকি।

নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদাঃ—–মেধা ও পরিশ্রমের বিকল্প যে কোনো কিছু নেই তা আরও একবার প্রমাণ করে দিলেন মালদা জেলার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ নং ব্লকের তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের রাড়িয়াল গ্রামের বাসিন্দা রকি চন্দ্র দাস।ডবলু বি সি এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জয়েন্ট বিডিও হতে চলেছেন হোটেল কর্মচারীর ছেলে বছর ছাব্বিশের রকি।ছেলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যে বাবা মা ও আত্মীয়স্বজনদের বুক গর্বে ভরে উঠেছে।এলাকায় খুশির বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।জানা গেছে,২০ জুলাই ডবলু বি সি এস
পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।রকি
ডবলু বি সি এস পরীক্ষায় ‘সি’ বিভাগে সারা পশ্চিমবঙ্গে‌ ২৯ রেঙ্ক করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।বাবা পরাণ চন্দ্র দাস একজন হোটেল কর্মচারী,মা অনু দাস অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কা।ছোট থেকেই অভাব আর অর্থকষ্ট তাঁর নিত্য সঙ্গী থাকলেও তবে বাবা মা তাকে কখনো অভাব বুঝতে দেয়নি।স্কুলের গণ্ডি পেরলেও জীবন থেকে মোছেনি অভাবের অন্ধকার।এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে প্রখর ইচ্ছেশক্তি ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে
ডবলু বি সি এস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে জয়েন্ট বিডিও হতে চলেছেন হোটেল কর্মচারীর ছেলে রকি।রকি জানান,দুই বার অসফল হওয়ার পর তৃতীয়বার ডবলু বি সি এস পরীক্ষার সাফল্য তার হাতে ধরা দিয়েছে।চলতি মাসের ২০ জুলাই চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গিয়েছে যে ডবলু বি সি এস
‘সি’ বিভাগে সারা পশ্চিমবঙ্গে ২৯ রেঙ্ক করেছে সে।পরিবারে আর্থিক অভাব থাকলেও মেধার অভাব ছিল না তাঁর।২০১২ সালে তুলসীহাটা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে প্রথম বিভাগে মাধ্যমিক ও ২০১৪ সালে লেটার মার্ক নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন।এরপর মুর্শিদাবাদ কৃষ্ণনাথ কলেজে ইংরেজি অনার্স নিয়ে ভর্তি হন।২০১৭ সালে দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়ে স্নাতক পাশ করেন।এরপর বহরমপুর মেসে থেকে ডবলু বি সি এস পরীক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতেন।আর্থিক অভাবের কারণে তেমন কোচিং নিতেও পারেননি।মুর্শিদাবাদ জেলা স্তরের প্রশাসনিক কিছু আধিকারিকগণের সহায়তায় মুর্শিদাবাদ জেলা গ্রন্থাগারে দেড় বছর ধরে অবৈতনিক ভাবে ডবলু বি সি এস পরীক্ষার প্রস্তুতি নেন তিনি।তবে নিজে সকাল বিকেল টিউশন পড়িয়ে পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতেন।রকির বাবা পরাণ দাস ছেলের কথা বলতে গিয়ে তাঁর বুকভরা দীর্ঘশ্বাস আর গলায় অপরাধবোধ ধরা পড়ে।তিনি
বলেন ‘তার এক ছেলে ও এক মেয়ে। পরিবার চালাতে ও দুই ছেলে মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে তাকে কখনো ভিন রাজ্যে আবার কখনো দিনমজুরের কাজ করতে হয়েছে।বর্তমানে তুলসীহাটা এলাকায় এক হোটেলে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।এই সামান্য আয়ে পরিবার চালাতে হিমসিম খেতে হতো তাকে।ছেলের পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতে গিয়ে বন্ধন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়েছে।তবে আজ সব অন্ধকার মিটে গিয়েছে রকির সাফল্যের আলোয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *