কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- তাল কখনও থেমে যায় না, লয় কখনও স্তব্ধ হয় না। সময় থামে, মানুষ থামে—কিন্তু একজন শিল্পী তাঁর সৃষ্টির মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকেন প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ঠিক সেই অনুভব থেকেই রবিবার সঙ্গীতের শ্রদ্ধাঞ্জলিতে স্মরণ করা হল কিংবদন্তি তবলা বাদক শিল্পী পণ্ডিত বাবলু রায়কে।
এই স্মরণ অনুষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা ও আয়োজন করেন পন্ডিত বাবলু রায়ের সুযোগ্য পুত্র রূপক রায়।
হাওড়ার বালি লাইব্রেরি হলে—এদিন যেন শুধুই একটি অনুষ্ঠানস্থল নয়, বরং হয়ে উঠেছিল স্মৃতি আর সংগীতের আবেগের মিলনকেন্দ্র। সংগীতের মাধুর্যে পণ্ডিত বাবলু রায়ের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানালেন শহরের বিশিষ্ট সংগীত শিল্পীরা।
মঞ্চে একের পর এক সঙ্গীত পরিবেশনা, আর তার মধ্যেই ফিরে দেখা পণ্ডিত বাবলু রায়ের জীবন, তাঁর নিরলস সাধনা, তবলার প্রতি গভীর নিষ্ঠা এবং গুরুশিষ্য পরম্পরার প্রতি তাঁর দায়বদ্ধতা। স্বর্ণযুগের এমন কোনও শিল্পী প্রায় নেই, যাঁদের সঙ্গে পণ্ডিত বাবলু রায় তবলার সঙ্গত করেননি। যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের কণ্ঠে ফিরে এল গুরুর সান্নিধ্যের স্মৃতি, কঠোর রেওয়াজ, ছন্দবোধের শিক্ষা এবং সাধনায় তাঁর আপসহীন দৃষ্টিভঙ্গি।
এই স্মরণসভা যেন শুধুই একটি স্মৃতিচারণের অনুষ্ঠান নয়। এ যেন শিল্পীমহলের এক সম্মিলিত অনুভব। কারণ পণ্ডিত বাবলু রায় শুধু একজন দক্ষ বাদ্যযন্ত্রশিল্পীই ছিলেন না—তিনি ছিলেন এক প্রজন্মের পথপ্রদর্শক, যিনি তাল ও লয়ের মাধ্যমে শিখিয়েছেন সংযম, সাধনা আর সততার মূল্য , এবং তবলা কে সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে নিয়ে যাওয়ায় তার ভূমিকা অনস্বীকার্য ।
তার তবলার ঝংকার, ছন্দ আর আবেগের মেলবন্ধনে এই সন্ধ্যা আরও একবার মনে করিয়ে দিল—শিল্পী কখনও হারিয়ে যান না। পণ্ডিত বাবলু রায় আজও বেঁচে আছেন বাংলা বাদ্যসঙ্গীতের প্রতিটি তালচক্রে, প্রতিটি শুদ্ধ লয়ে।












Leave a Reply