মহিষাদল, পূর্ব মেদিনীপুর, সুমন কুমার ভূঞ্যা :- অসাধারণ প্রতিভার জোরে তিন পেরোনোর আগেই , অনূর্ধ্ব তিন বছরের বিভাগে ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডস ও এশিয়া বুক অফ রেকর্ডসে নিজের নাম নথিভুক্ত করে নজির গড়ল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার মহিষাদল থানা এলাকার ঘাগরা গ্রামের বাসিন্দা সুলগ্না রাউল। তার এই অনন্য সাফল্যে গর্বিত পরিবার-পরিজন থেকে শুরু করে গোটা এলাকা।
খুব অল্প বয়স থেকেই সুলগ্নার মধ্যে দেখা যায় ব্যতিক্রমী আচরণ ও বিস্ময়কর প্রতিভার ছাপ। পরিবারের দাবি, জন্মের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই তার আচরণে কিছু অস্বাভাবিক কিন্তু আশ্চর্য গুণ প্রকাশ পেতে শুরু করে। তিন মাস বয়সে দোলনা ভেঙে পড়ার সময় নিজের পা ব্যবহার করে দোলনাটি সামলে নিয়ে নিজেকে রক্ষা করে সে—যা দেখে পরিবারের সদস্যরাও হতবাক হয়ে যান।
খেলাধুলার তুলনায় বই-খাতা ও ছবি আঁকার প্রতিই বেশি আগ্রহ ছিল সুলগ্নার। মনোযোগ দিয়ে রঙিন ছবিতে কাজ করা, স্মরণশক্তি ও বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ সকলের নজর কেড়েছে। বড় ভাই সমৃদ্ধ রাউলের কাছ থেকে খুব অল্প বয়সেই সে ‘আতা গাছে তোতা পাখি’-র মতো ছড়া ও পাঠ শিখে নিতে শুরু করে।
সুলগ্নার শেখার আগ্রহ ও তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তা লক্ষ্য করে মা শ্যাওলি রাউল (গৃহিণী) ছোটবেলা থেকেই ঘরোয়া পরিবেশে তাকে শিক্ষাদান শুরু করেন। তার শিক্ষার মান ও অগ্রগতি বয়সের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
এই খুদে প্রতিভার বাবা সৌমেন কুমার রাউল, যিনি বর্তমানে খড়গপুর জিআরপিতে এসআই পদে কর্মরত, জানান—সুলগ্না শুধু পড়াশোনায় নয়, তার শিষ্টাচার ও ব্যবহার দিয়েও সকলের মন জয় করে নেয়। এর পর সুলগ্নার পরিবার কিছু শুভানুধ্যায়ী ও গুণী মানুষদের পরামর্শে রেকর্ড বুকে আবেদন করে এবং সাফল্য অর্জন করে।
সুলগ্নার এই কৃতিত্বে খুশির হাওয়া বইছে গোটা ঘাঘরা গ্রামে। পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী সকলেই নিজেদের গর্বিত মনে করছেন। সুলগ্না রাউলের এই সাফল্য প্রমাণ করে—প্রতিভা কখনও বয়সের অপেক্ষা করে না।












Leave a Reply