বালুরঘাট, নিজস্ব সংবাদদাতা :- দক্ষিণ দিনাজপুরের সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য শুক্রবারটি এক স্মরণীয় দিন হয়ে উঠল। বালুরঘাট নাট্যতীর্থ মন্মথ মঞ্চের প্রণব চক্রবর্তী প্রেক্ষাগৃহে অনুষ্ঠিত হল এক বিশেষ আবৃত্তি উৎসব — “জেলার কণ্ঠে জেলার কবিতা” ।
এই উৎসবের আয়োজন করেছিল জেলার সাহিত্যচর্চার প্রসারে নিবেদিত সংগঠন “দক্ষিণ দিনাজপুরের কলম”। এটি ছিল শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং জেলার কবি ও আবৃত্তিশিল্পীদের এক অনন্য মিলনমেলা।
“জেলার কণ্ঠে জেলার কবিতা” উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল জেলার কবিদের অনুভূতি ও আবৃত্তিশিল্পীদের আবেগকে একত্রিত করা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কবিদের শতাধিক কবিতার উপর শতাধিক আবৃত্তিশিল্পী তাঁদের কণ্ঠে নতুন প্রাণ দিয়েছেন। প্রতিটি পরিবেশনা দর্শকদের হৃদয়ে এক নতুন আবেগের সঞ্চার করেছে।
এই আয়োজন শুধুমাত্র প্রতিযোগিতার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি ছিল সৃজনশীলতার এক অনন্য উদযাপন। কবি ও শিল্পীদের মধ্যে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রচেষ্টা, যেখানে একে অপরের সৃষ্টির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়েছে।
উৎসবের মঞ্চে একের পর এক আবৃত্তি পরিবেশনা দর্শকদের হৃদয়ে আবেগের ঝড় তোলে। কবিতার শব্দ ও কণ্ঠের গভীরতা যেন মিলেমিশে এক সুরেলা আবেশ তৈরি করে। প্রতিটি পরিবেশনা ছিল দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা।
উৎসবে উপস্থিত ছিলেন জেলার খ্যাতনামা কবি, সাহিত্যিক ও আবৃত্তিশিল্পীরা। বিচারক মণ্ডলীর আসনে ছিলেন বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী ও কবি, যাঁরা প্রতিটি পরিবেশনার গভীরতা, আবেগ এবং সৃজনশীলতার মূল্যায়ন করেন। তাঁদের বিচক্ষণ পর্যালোচনার মাধ্যমে নির্বাচিত হয় প্রতিযোগিতার সেরা পরিবেশনাগুলি।
“জেলার কণ্ঠে জেলার কবিতা” শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়। এটি দক্ষিণ দিনাজপুরের সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। কবি ও শিল্পীদের এই মিলনমেলা প্রমাণ করেছে যে ভাষা, শব্দ এবং সৃজনশীলতা কীভাবে মানুষের হৃদয়ে গভীর সংযোগ তৈরি করতে পারে।
এই উৎসবের মাধ্যমে জেলার কবি ও আবৃত্তিশিল্পীদের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এটি ভবিষ্যতে জেলার সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
“জেলার কণ্ঠে জেলার কবিতা” — এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়, এটি দক্ষিণ দিনাজপুরের কাব্যচর্চা ও আবৃত্তির ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে। কবিতা ও কণ্ঠের এই মেলবন্ধন আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, ভাষার সৌন্দর্য ও আবেগের শক্তি একসঙ্গে কতটা অনন্য হতে পারে।
“দক্ষিণ দিনাজপুরের কলম”- এর সম্পাদক সঞ্জয় মাহাতো বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল জেলার কবি ও আবৃত্তিশিল্পীদের মধ্যে একটি আন্তরিক সৃজনশীল সম্পর্ক তৈরি করা। এই উৎসব সেই লক্ষ্য পূরণের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”_
এই আয়োজন দক্ষিণ দিনাজপুরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আরও উজ্জ্বল করল এবং প্রমাণ করল যে শিল্প ও সাহিত্যের মেলবন্ধন সবসময় মানুষের হৃদয়ে এক অনন্য আবেগ সৃষ্টি করতে পারে।












Leave a Reply