দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আজ তেভাগা আন্দোলনের শহিদদ দিবস। ১৯৪৭ সালের অভিবক্ত বাংলার দিনাজপুর জেলা তথা বালুরঘাটের খাঁপুরে পুলিসের গুলি নিহত হয়েছিল ২২ জন শহিদ। তেভাগা আন্দোলনের সেই শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করলো দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল খেতমজুর। এদিন খাঁপুরে শহীদ স্তম্ভের সামনে একটি ছোট্ট অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তৃণমূল ক্ষেতমজুরের পক্ষ থেকে শহীদদের স্মরণ করে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন করা হয় এবং শহীদদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।
প্রসঙ্গত, চাষীদের চাষ করা ফসলের অধিকার নিয়েই শুরু হয়েছিল তেভাগা আন্দোলন। চাষের বেশিরভাগ অংশই জমিদারদের ভাগে চলে যাওয়ায় চাষীরা আন্দোলন শুরু করেছিল। তাদের মূল দাবি ছিল, চাষ করা ধানের তিনভাগের দুইভাগ চাষীরা পাবে এবং একভাগ জমিদাররা পাবে। কিন্তু জমিদার তা না মেনে চাষীদের উপর অত্যাচার শুরু করে। এমনকি চাষীদের আন্দোলন যেন স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপান্তরিত না হয় সেই জন্য ইংরেজরাও জমিদারদের সঙ্গে এক হয়ে চাষীদের উপর অত্যাচার করতে শুরু করে। তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম নেতা নীল মাধব সরকারের বাড়ি ছিল বালুরঘাটের খাঁপুরে। তেভাগা আন্দোলন দমন করতে ২০ ফেব্রুয়ারী সেই কৃষক নেতার বাড়িতে পুলিস হামলা করে। গ্রামবাসীরা বাঁধা দিতে গেলে পুলিস গুলি চালায়। সেই গুলিতে কৃষক নেতা নীল মাধব সরকার, যশোধা রানী সরকার, কৌশল্যা কামরানী, কোল কামরানি, ভাদু বর্মন, উদয় সিংহ রায় সহ মোট ২২ জন একসাথে শহিদ হয়েছিল। সেই শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশে খাঁপুরে একটি স্মৃতি সৌধ রয়েছে। সেখানেই এদিন দক্ষিণ দিনাজপুর তৃণমূল ক্ষেতমজুরের তরফ থেকে তেভাগা শহীদ-দের স্মরণ করে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল ক্ষেতমজুর সভাপতি শাহেনশা মোল্লা, জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সম্পাদক তথা বালুরঘাট পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক মিত্র, দক্ষিণ দিনাজপুর মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী স্নেহলাতা হেমব্রম সহ একাধিক নেতৃত্ব।












Leave a Reply