আলিপুরদুয়ার, নিজস্ব সংবাদদাতা:–জটেশ্বর ও আশেপাশের এলাকার প্রান্তিক মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ নিলেন জটেশ্বরের বিশিষ্ট সমাজসেবী বাবলু রহমান। পবিত্র জটেশ্বর শিব চতুর্দশী মেলা উপলক্ষে সোমবার বিকেলে তিনি নিজ উদ্যোগে এলাকার অসহায় ও প্রান্তিক মানুষদের টোটোর মাধ্যমে মেলা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন, যাতে তারাও এই আনন্দ উৎসবে সামিল হতে পারেন। সমাজের এমন বহু মানুষ আছেন, যাঁরা প্রতিদিনের জীবিকা সংগ্রামের চাপে উৎসব-আনন্দ থেকে অনেকটাই দূরে সরে থাকেন। মেলা, পূজা বা সামাজিক অনুষ্ঠান তাঁদের জীবনে খুব একটা স্থান পায় না। সেইসব মানুষদের কথা ভেবেই বাবলু রহমান নিজ উদ্যোগে এদিন টোটোর ব্যবস্থা করে তাঁদের মেলা প্রাঙ্গণে নিয়ে আসেন। মেলা প্রাঙ্গণে পৌঁছে তাঁদের মুখে যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়, তা ছিল দেখার মতো। কেউ ঘুরে দেখেন বিভিন্ন দোকানপাট, কেউ কিনে নেন ছোটখাটো জিনিস, আবার কেউ উপভোগ করেন মেলার পরিবেশ। অনেকের কাছেই এটি ছিল দীর্ঘদিন পর এমন আনন্দময় পরিবেশে আসার অভিজ্ঞতা। একসঙ্গে ঘুরে বেড়ানো, হাসি-আড্ডা, গল্প সব মিলিয়ে মুহূর্তগুলো হয়ে ওঠে স্মরণীয়। এরপর সকলের জন্য খাবারের আয়োজন করেন বাবলু রহমান। সবার হাতে তুলে দেন ফলের পেকেট ও সামান্য আর্থিক সহযোগিতা, যাতে তাঁদের দৈনন্দিন প্রয়োজনেও কিছুটা সহায়তা হয়। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, তাঁর আচরণ ও আন্তরিকতা উপস্থিত সকলের মন ছুঁয়ে যায়। তিনি প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেন, খোঁজখবর নেন, তাঁদের সমস্যার কথাও শোনেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সমাজে এমন উদ্যোগ খুবই প্রয়োজন। শুধু দান বা সাহায্য নয়, প্রান্তিক মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো, তাঁদের সম্মান দেওয়া এবং উৎসবের আনন্দে সামিল করা এই মানসিকতাই প্রকৃত সমাজসেবার পরিচয়। এলাকার মানুষের মতে, এমন উদ্যোগ নিয়মিত হলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আরও দ্রুত আসবে। প্রান্তিক মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হোক প্রকৃত উৎসবের আসল সার্থকতা এই বার্তাই যেন আবারও স্মরণ করিয়ে দিলেন বাবলু রহমান।
উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রান্তিকদের পাশে বাবলু রহমান।












Leave a Reply