পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর পুরসভার কাজের গতি ও পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে পুর কর্তৃপক্ষকে এক সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক পারফরম্যান্স না হলে সরকার “অন্য ব্যবস্থা” নেবে।
রবিবার সকালে খড়গপুরে মর্নিং ওয়াক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী বলেন, খড়গপুর পুরসভায় পূর্ণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার বোর্ড রয়েছে। সরকার সেই বোর্ডকে কোনওভাবেই অস্থির করার চেষ্টা করেনি, বরং সবরকম সহযোগিতা করছে। তিনি নিজেও একাধিক সরকারি কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকেছেন। এরপরও কেন প্রত্যাশিত কাজ হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “একটা সম্পূর্ণ মেজরিটি নিয়ে একটা বোর্ড আছে। আমরা তো ডিস্টার্ব করিনি, বোর্ড ভাঙিনি, আমরা সহযোগিতা করছি। আমি নিজে প্রোগ্রামে এসেছি। তাহলে কেন পারফরম্যান্স আসছে না? আজকে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের ভাবা উচিত, আগামী দিনে নির্বাচন আছে, মানুষকে জবাব দিতে হবে। কেন্দ্রীয় সরকারের যে সমস্ত প্রকল্প রয়েছে, সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য, তা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা দরকার। আমি এক সপ্তাহের মধ্যে পারফরম্যান্স দেখতে চাই, না হলে অন্য ব্যবস্থা হবে।”
এদিন তিনি ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্প নিয়েও সরব হন। তাঁর দাবি, খড়গপুর পুরসভা এলাকায় এই প্রকল্পে বরাদ্দ অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগানো হয়নি। বহু ওয়ার্ডে কাজের বোর্ড লাগানো থাকলেও বাস্তবে সেই কাজ সম্পূর্ণ হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, “‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ প্রকল্পে পাড়ায় টাকা খরচ হয়নি, সমাধানও হয়নি। কোথায় গেল সেই টাকা, তার হিসাব দিতে হবে। এই প্রকল্পে বড় ধরনের দুর্নীতি হয়েছে। আর যদি টাকা খরচ না হয়ে থাকে, তাহলে সেই টাকা যাতে সঠিকভাবে মানুষের স্বার্থে ব্যয় হয়, সেটাও আমরা নিশ্চিত করব।”
মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্যকে ঘিরে খড়গপুরের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। একদিকে পুরসভার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে দুর্নীতির অভিযোগ এবং এক সপ্তাহের আলটিমেটাম—সব মিলিয়ে খড়গপুর পুরসভাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়ল। এখন পুর কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগের কী জবাব দেয় এবং আগামী এক সপ্তাহে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে শহরবাসীর।
খড়গপুর পুরসভাকে দিলীপ ঘোষের এক সপ্তাহের সময়সীমা, ‘কাজ না হলে অন্য ব্যবস্থা’ হুঁশিয়ারি।












Leave a Reply