৯৭তম জন্মবার্ষিকীতে কিশোর কুমারকে ভারতরত্ন দেওয়ার দাবি, ফের সরব অনুরাগীরা।

কলকাতা, নিজস্ব সংবাদদাতা: কিংবদন্তি গায়ক, অভিনেতা, সুরকার ও গীতিকার কিশোর কুমার গাঙ্গুলীকে ভারতরত্ন সম্মানে ভূষিত করা এবং তাঁর খণ্ডোয়ার বাড়িটিকে হেরিটেজ ভবন হিসেবে সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে সরব কিশোরপ্রেমীরা। একইসঙ্গে কিশোর কুমারের নামে একটি মেট্রো স্টেশনের নামকরণের দাবিও জানিয়ে আসছে ‘ভারতরত্ন কিশোর কুমার গ্রুপ’

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই দাবিগুলি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কিশোরপ্রেমীদের একত্রিত করে আবেদন জানানো হচ্ছে। সংগঠনের দাবি, তাঁদের পক্ষ থেকে রেল কর্তৃপক্ষের কাছেও আবেদন জানানো হয়েছে এবং সেই আবেদন মঞ্জুর করা হয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর দফতর ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছেও চিঠির মাধ্যমে নিজেদের দাবিগুলি বাস্তবায়নের আবেদন জানানো হয়েছে।

এখন কিশোরপ্রেমীদের একটাই অপেক্ষা—কবে তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবে রূপ পাবে। সেই দাবিকে আরও জোরালো করতেই প্রতি বছরের মতো এ বছরও দু’দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কিশোর কুমার গাঙ্গুলীর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কিশোর কুমার গাঙ্গুলীর নাতনি শাশ্বতী ব্যানার্জি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্বনামধন্য শিল্পী আনন্দ ও ইন্দ্রাণী, উদয়রাজ, বাপি মুখার্জি, রাতুল দাস, বিধায়ক সজল ঘোষ, সমাজসেবী নন্দিনী ভট্টাচার্য, কার্তিক মিত্র, প্রভাস চ্যাটার্জি-সহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও শিল্পী।

অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল ব্রাইট স্টার মিউজিক্যাল গ্রুপ। কিশোর কুমারের গান ও সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শিল্পীদের উৎসাহিত করতেও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিবছরের মতো এবারও সারা ভারত থেকে শিল্পীদের নিয়ে একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ‘ভারতরত্ন কিশোর কুমার গ্রুপ’। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের হাতে পুরস্কার ও মানপত্র তুলে দেওয়া হয়।

এদিন স্বনামধন্য সুরকার ও শিল্পী আনন্দ এবং ইন্দ্রাণীকে ‘লাইফ অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়। তাঁদের শিল্পীজীবনের অবদানকে সম্মান জানাতেই এই পুরস্কার দেওয়া হয় বলে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কিশোর কুমারের গান, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তাঁর ৯৭তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন করা হয়, তেমনই অন্যদিকে তাঁকে ভারতরত্ন দেওয়া, তাঁর স্মৃতিবিজড়িত খণ্ডোয়ার বাড়ি সংরক্ষণ এবং কিশোর কুমারের নামে মেট্রো স্টেশনের নামকরণের দাবিও ফের সামনে আনা হয়। কিশোরপ্রেমীদের আশা, একদিন তাঁদের দীর্ঘদিনের দাবি সরকারি স্বীকৃতি পাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *