স্বামীর বিরুদ্ধে নির্যাতন ও খুনের অভিযোগ, উজ্জয়িনীতে বধূর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য মালদার সন্তোষপুরে।

মালদা নিজস্ব সংবাদদাতা:—- সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিবাদ চলছিল বলে অভিযোগ। সেই অশান্তির জেরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন বধূ। মৃত্যুর ঠিক আগের দিন ভাইকে নিজের রক্তাক্ত অবস্থার ছবি পাঠিয়ে মারধরের কথা জানিয়েছিলেন তিনি। এমনকী, প্রাণহানির আশঙ্কার কথাও বলেছিলেন বলে দাবি পরিবারের। এর পরদিনই মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে একটি ভাড়া বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। তাঁকে খুন করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মৃতার পরিবারের।
মৃতার নাম নুরবানু বিবি (২৬)। তাঁর বাড়ি হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের সন্তোষপুর গ্রামে। পাঁচ বছর আগে চাঁচল থানার দেবীগঞ্জের বাসিন্দা সামাদ আলির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। নুরবানু ছিলেন সামাদের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর প্রথম স্ত্রী মারা গিয়েছেন। প্রথম পক্ষের দুই সন্তান রয়েছে সামাদের। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে নুরবানুর উপর নির্যাতন চালানো হত। প্রায় চার মাস আগে স্বামীর সঙ্গে উজ্জয়িনীতে পাড়ি দেন নুরবানু। সেখানে সামাদের একটি প্লাস্টিকের কারখানা রয়েছে। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগের দিনও দম্পতির মধ্যে অশান্তি হয়। সেই সময় নুরবানুকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পরে ভাইকে ছবি পাঠিয়ে তিনি নিজের উপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানান। বুধবার সকালে উজ্জয়িনীর একটি ভাড়া বাড়ি থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শুক্রবার সামাদ দেহটি দেবীগঞ্জে নিয়ে আসেন। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, দেহ বাড়িতে পৌঁছনোর পর তা নিতে গেলে তাঁদের বাধা দেন শ্বশুরবাড়ির লোকেরা। পরে নুরবানুর দেহ সন্তোষপুরে বাপের বাড়িতে নিয়ে আসা হলেও কাফন ও দাফনের সময় শ্বশুরবাড়ির কেউ উপস্থিত হননি বলে দাবি পরিবারের। শেষ পর্যন্ত বাপের বাড়ির লোকেরাই দাফনের ব্যবস্থা করেন। অন্যদিকে, খুনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সামাদ। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি কাজে ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পেয়ে বাড়িতে ফিরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। নুরবানুর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে তাঁর পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *