আনন্দপুরে ‘প্রস্তুতি’ প্রকল্পের সূচনা, পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর চাকরির লক্ষ্যে ৬০০ পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ।

পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নির্দেশ অনুসারে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের উদ্যোগে কেশপুর ও আনন্দপুর থানার যৌথ সহযোগিতায় এলাকার বিভিন্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের ভবিষ্যতে পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর চাকরির পরীক্ষার উপযুক্ত করে তুলতে ‘প্রস্তুতি’ নামে একটি পাইলট প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। রবিবার আনন্দপুর ফুটবল ময়দানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ সূচনা হয়। এইদিন শুভ সূচনা করেন জেলার পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা, এছাড়াও এই দিন উপস্থিত ছিলেন,অ্যাডিশনাল এসপি, ডিএনটি, সি আই,কেশপুর ও আনন্দপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ও বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা।এইদিন জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী রাজ্যে পুলিশে ব্যাপক নিয়োগের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কেশপুর ও আনন্দপুরের বিভিন্ন স্কুলের প্রায় ৫০০–৬০০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় সাড়ে ৩৫০ জনই ছাত্রী। তিনি বলেন, এই প্রশিক্ষণ শিবিরে অংশগ্রহণকারীদের পুলিশ কনস্টেবল ও আধাসামরিক বাহিনীর বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, শারীরিক অনুশীলন এবং লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি দেওয়া হবে। ভবিষ্যতে এই প্রকল্প ধাপে ধাপে সমগ্র পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ সুপার আরও জানান, বর্তমানে কর্মরত পুলিশকর্মীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের পাশে দাঁড়াবেন এবং কীভাবে সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হয়, সে বিষয়ে দিকনির্দেশ দেবেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, পুলিশ যে সাধারণ মানুষের বন্ধু এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশে রয়েছে, এই উদ্যোগ তারই প্রতিফলন। বিশেষভাবে ছাত্রীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের নিরাপত্তা, আত্মনির্ভরতা এবং আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের প্রশিক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই লক্ষ্যেই এই প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে। এদিকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছাত্রী, সাথি ঘোষ বলেন, এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে নতুন আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই সঠিক দিশা ও অনুপ্রেরণা পেলে ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়া অনেক সহজ হবে। তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণ শিবিরে শারীরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি সাধারণ জ্ঞান (GK), জেনারেল ইন্টেলিজেন্স (GI) সহ বিভিন্ন বিষয়েরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। তিনি এই উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের এবং স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং অন্য ছাত্র-ছাত্রীদেরও এতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *