কয়েক ঘণ্টার ভাঙনে গঙ্গাগর্ভে ঘরবাড়ি, রতুয়ার জিতুটোলায় আতঙ্কে গ্রামবাসী।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- মালদার রতুয়া-১নং ব্লকে শুরু হল ব্যাপক গঙ্গা ভাঙন! মাত্র কয়েক ঘন্টার ভাঙনে গঙ্গাগর্ভে তলিয়ে গেল ৪০-৫০টি পরিবারের ঘরবাড়ি। চোখের সামনে ঘরবাড়ি সহ সর্বস্ব নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরম অসহায় পরিস্থিতিতে পড়ে সরকারি উদাসীনতায় একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ভাঙন দুর্গতরা। জানা গেছে, গত কদিন ধরেই মালদায় কমছে গঙ্গার জলস্তর। আর জলস্তর কমতে শুরু করতেই মালদার রতুয়া-১ ব্লকের মহানন্দটোলা এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন শুরু হয়েছে। রবিবার সকাল থেকে মহানন্দটোলা গ্রাম পঞ্চায়েতের জিতুটোলা গ্রামে আচমকাই শুরু হয় ভাঙন। মুহূর্তের মধ্যে গঙ্গার গ্রাসে চলে যায় গ্রামের প্রায় ৪০ থেকে ৫০টি বাড়ি। ভাঙনের আতঙ্কে ঘরছাড়া হতে শুরু করেন এলাকার বহু পরিবার। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সকাল থেকেই গঙ্গার পাড়ে ফাটল দেখা দিতে শুরু করে। এরপর আচমকা নদীগর্ভে চলে যেতে থাকে একের পর এক বসতবাড়ি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে, আতঙ্কিত গ্রামবাসীরা ঘরবাড়ি থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী বের করে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে শুরু করেন। চোখের সামনে বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকেই।ভাঙনের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় পৌঁছায় ব্লক প্রশাসন ও পুলিশ। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দুর্গত পরিবারগুলিকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। তারা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গঙ্গার জল কমার সঙ্গে সঙ্গেই আচমকা ভাঙন শুরু হয়েছে। আগে থেকেই নদীভাঙনের আশঙ্কা থাকলেও এদিনের মতো দ্রুতগতিতে ভাঙন তারা আগে দেখেননি। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বহু পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। এলাকায় এখনও ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। নতুন করে আরও বাড়িঘর নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বাসীন্দারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। দুর্গতদের নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় ত্রাণ এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আচমকা নদীর গ্রাসে বসতবাড়ি হারিয়ে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে জিতুটলা গ্রামের বহু পরিবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *