দশমীতে সুটুঙ্গা নদীতে নৌকায় মায়ের বিদায়, ঐতিহ্য ফেরাতে জোরকদমে প্রস্তুতি মাথাভাঙ্গায়।

মাথাভাঙ্গা, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অবশেষে ফিরছে ঐতিহ্য। দীর্ঘ এক দশকের অপেক্ষার অবসান। বিধায়ক তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের উদ্যোগে ও প্রতিশ্রুতিতে এবার বিজয়া দশমীতে মাথাভাঙ্গার লাইফলাইন সুটুঙ্গা নদী বক্ষে নৌকায় করে বিদায় নেবেন মা দুর্গা।

বিগত কয়েক বছর ধরে অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মাথাভাঙ্গার এই ঐতিহ্যবাহী নৌকায় প্রতিমা নিরঞ্জন। কেন বন্ধ হল, তার উত্তর মেলেনি। ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দাবিতে আন্দোলন, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েও কোনো লাভ হয়নি।

কিন্তু এবার বিধানসভা নির্বাচনের পর মাথাভাঙ্গার বিধায়ক নিশীথ প্রামাণিক ঘোষণা করেছিলেন, মা দুর্গা এবার সুটুঙ্গা নদী বক্ষেই নৌকায় করে বিদায় নেবেন। যেমন কথা, তেমন কাজ।

ইতিমধ্যেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। নদীর দুই পাড়ের ঝোপঝাড়, আগাছা পরিষ্কার করা শেষ। বাইরে থেকে নৌকা আসা শুরু হয়েছে। নদীর দুই ধারে প্রদর্শনী, মঞ্চ বাঁধা, প্যান্ডেল ও আলোর কাজ চলছে জোর কদমে। সুটুঙ্গা নদীর দুই পারকে নতুন সাজে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে।

এই পুরো কর্মসূচি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে। টিমের অন্যতম দায়িত্বে থাকা নন্দলাল সরকার জানান, “দাদা যে কথা দেন, সেটা রাখার চেষ্টা করেন। বাস্তবে তাই হচ্ছে। পরিকল্পনা ছিল, তা আজ বাস্তবায়িত হতে চলেছে।” আজ তিনি সহ টিমের সদস্যরা নদীর দুই পার পরিদর্শন করেন এবং কতগুলো নৌকা লাগবে তার খোঁজখবর নেন। তিনি জানান, বাইরে থেকে বেশ কিছু বড় নৌকা আনা হবে, সেই নৌকাতেই চড়ে মা বিদায় নেবেন।

ঐতিহ্য ফিরে আসার খবরে খুশি মাথাভাঙ্গা বিধানসভা এলাকার আপামর জনসাধারণ ও নাগরিক সমাজ।

‘ঐতিহ্য ফিরিয়ে দাও’ কমিটির যুগ্ম সম্পাদক কাজল রায় আজ নৌকায় চড়ে পরিদর্শনের সময় বলেন, “অনেক চেষ্টা করেছিলাম, সফল হয়নি। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠিও পাঠিয়েছিলাম। কোনো কাজ হয়নি। অবশেষে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিকের উদ্যোগে ঐতিহ্য ফিরে আসছে জেনে ভীষণ খুশি। মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

আজ তৃতীয়া, তারপর ষষ্ঠী থেকে নবমী পেরিয়ে দশমীর দিন মায়ের বিদায়। আর সেই বিদায়ের আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকবে ঐতিহ্যবাহী সুটুঙ্গা নদী। বহু বছরের আবেগ আজ বাস্তবায়িত হতে চলেছে। প্রস্তুতি তুঙ্গে, আনন্দে মেতেছে গোটা মাথাভাঙ্গা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *