পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- গরুর গাড়ির উপরেই তৈরি হয় মায়ের মূর্তি! গরুর গাড়িতেই চলে পুজো, আর পুজো শেষে সেই গরুর গাড়িতেই হয় প্রতিমা নিরঞ্জন! হ্যাঁ, এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রথার সাক্ষী পশ্চিম মেদিনীপুরের মেদিনীপুর শহরের মানিকপুর। যেখানে ২১ ফুটের বিশালাকার ‘মোটা কালী’ বা ‘গদা কালী’কে ঘিরে উন্মাদনা এখন তুঙ্গে!
মানিকপুর ভাতৃ সংঘের ঐতিহ্যবাহী এই কালীপুজো এবার ৫৯ বছরে পদার্পণ করল। গরুর গাড়ি-সহ প্রতিমার উচ্চতা প্রায় ২১ ফুট। সাধারণ কালীমূর্তির তুলনায় একেবারেই আলাদা মায়ের অবয়ব। লম্বা, সুঠাম এবং মোটা-সোটা গঠনের কারণেই ভক্তদের কাছে তিনি পরিচিত ‘মোটা কালী’ কিংবা ‘গদা কালী’ নামে। উদ্যোক্তাদের কথায়, একসময় ভাতৃ সংঘ ছিল শরীরচর্চার ক্লাব। ক্লাবের সদস্যরা নিয়মিত ব্যায়াম ও বডি বিল্ডিং করতেন। তাঁরাই পুজোর সূচনালগ্নে মায়ের মূর্তিকে পেশীবহুল ও সুঠাম রূপে গড়ে তোলেন। সেই ঐতিহ্য আজও ধরে রেখেছেন উদ্যোক্তারা। তবে এই পুজোর সবচেয়ে বড় চমক প্রতিমা তৈরির পদ্ধতিতে। বিশালাকার ও ভারী মূর্তি ওঠানো-নামানোর সমস্যা এড়াতে প্রথম থেকেই গরুর গাড়ির উপরেই তৈরি করা হয় মায়ের মূর্তি। পুজোর দিনগুলিতে রাস্তার পাশেই সেই গাড়ির উপর পূজিত হন মা। আর নিরঞ্জনের সময়ও কোনও ট্রাকের প্রয়োজন হয় না। গরুর গাড়ি টেনেই বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা।
ঢাক, ঢোল, তাসা ও ব্যান্ড পার্টির তালে শহরের বিভিন্ন রাস্তা পরিক্রমা করে প্রতিমা নিরঞ্জন। সেই শোভাযাত্রা দেখতে রাস্তার দু’ধারে ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। সব মিলিয়ে আধুনিকতার ভিড়েও ৫৯ বছর ধরে নিজস্ব ঐতিহ্য ও ব্যতিক্রমী রীতি ধরে রেখেছে মানিকপুর ভাতৃ সংঘের এই পুজো। আর সেই ঐতিহ্যের টানেই প্রতিবছর দর্শনার্থীদের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে ২১ ফুটের ‘মোটা কালী’!