কোচবিহার, নিজস্ব সংবাদদাতা ১৪ জুনঃ- গত ৭ জুন পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে কর্মীদের বাইরে বার করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হল। তারপর মূল দরজার সামনে লাগিয়ে দেওয়া হল তৃণমূলের ঝাণ্ডা। বারবার বিডিও সাহেবকে বলেও কোন সুরাহা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ৭দিন পরে তার প্রতিবাদে ধর্নায় বসলেন বিজেপি পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানসহ গ্রাম পঞ্চায়েতে সদস্যরা। ঘটনটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার অন্তর্গত তুফানগঞ্জ ১ নং ব্লকের অন্দরানফুলবাড়ী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে।
অভিযোগ, আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রে জয় লাভ করেছে বিজেপি। কোচবিহারে জয়ী হয়েছে তৃণমূল। তারপরে বিজেপির দখলে থাকা অন্দরানফুলবাড়ী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে কর্মীদের বার করে দিয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। গেটে তৃণমূলের দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেয়। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি কাজ। দীর্ঘ ৭ দিন কেটে গেলেও এখনও পর্যন্ত কোন সুরাহা হয়নি। এলাকার লোকজন এসে প্রধান ও পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়িতে গিয়ে অভিযোগ জানায় যে, অঞ্চল অফিসে তারা থাকায় এলাকার লোকজন সার্টিফিকেট পাচ্ছে না, কোন পরিষেবা পাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে আজ গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে ধরনায় বসেন বিজেপির প্রধান ও উপপ্রধান সহ অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যরা।
এদিন এবিষয়ে অন্দরানফুলবাড়ী ১ নং গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শুক্লা সরকার অধিকারী বলেন, দপ্তরের তালা ঝোলানোয় সাধারণ মানুষকে সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরে এসে ঘুরে যাচ্ছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না দপ্তরে তালা খোলা হবে আমরা ধরনা চালিয়ে যাব। এদিকে ঘটনায় পরবর্তীতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে তালা খুলে দেওয়া হয় গ্রাম পঞ্চায়েতের।
উল্লেখ্য, অন্দরানফুলবাড়ী ১নং গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২টি আসন রয়েছে। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি পায় ১০টি আসন। বাকি দুটি আসন পায় তৃণমূল। সংখ্যা গরিষ্ঠতা পায় বিজেপি। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার আসনে বিজেপির প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিককে পরাজিত করে জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থী জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া। তারপর থেকে শুরু হয় বিভিন্ন অঞ্চলের ভাঙ্গা গড়ার খেলা। বিভিন্ন অঞ্চলের বিজেপি পঞ্চায়েত, প্রধান ও উপপ্রধানরা তৃনমূলে যোগদান করছে। যদিও ওই অঞ্চল এখনও তৃনমূলে আসেনি। তার জেরে ক্ষমতার বলে বিজেপির দখলে থাকা অন্দরানফুলবাড়ী ১নং গ্রাম পঞ্চায়েত দখল নিতে চায় তৃণমূল। সেই কারনে তারা গত ৭ তারিখ শুক্রবার গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে অফিসে দলীয় পতাকা লাগিয়ে দেন। তারপর প্রধান ও উপপ্রধান সহ অন্যান্য নেতৃত্বরা বিডিওকে জানালেও কোন কাজ হয় নি। তাই বাধ্য হয়ে তালাবন্দি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের মুল ফটকের সামনে বসে ধর্নায় বসেছেন প্রধান-উপপ্রধান ও গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যারা।
পঞ্চায়েত অফিসে ঢুকে কর্মীদের বাইরে বার করে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হল, প্রতিবাদে ধর্নায় প্রধান সহ অন্যান্য পঞ্চায়েত সদস্যরা।












Leave a Reply