দক্ষিণ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা: ভক্তি, প্রতিজ্ঞা আর সংকল্প—এই তিনে মিশে তৈরি হয়েছে এক অনন্য যাত্রাপথ। হেমতাবাদ ব্লকের ঝাড়াপুর গ্রামের যুবক বিপ্লব বর্মণ নিজের ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় ‘মানত’ করেছিলেন প্রায় এক মাস আগে। সেই মানতের প্রতিফলন হিসেবেই এবার তিনি শুরু করেছেন ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ দণ্ডি কাটা যাত্রা, গন্তব্য কুশমন্ডির ঐতিহ্যবাহী নড়বড়িয়া শিব মন্দির।
পদে পদে কাঁটার মতো কষ্ট, গায়ে পড়ছে রোদের ঝাঁঝ, মাঝেমাঝে নামছে বৃষ্টির ধারা—তবুও বিপ্লব বর্মণ দমে যাননি। তিনি জানেন, এ যাত্রা শুধুই পথ চলা নয়, এটি তাঁর ভক্তি, আত্মনিবেদন ও বিশ্বাসের এক শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শিবের মাথায় জল ঢেলে মানত সম্পূর্ণ করার দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে পথে নেমেছেন বিপ্লব। আশেপাশের মানুষদের চোখে এই যাত্রা এক অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে। অনেকেই জানাচ্ছেন সমর্থন ও শুভেচ্ছা।
প্রতিবেশীদের কথায়, “আমরা ওর এই যাত্রাকে কুর্নিশ জানাই। এতটা কষ্টের পরেও সে যে ভাবে দণ্ডি কেটে এগিয়ে চলেছে, তা সত্যিই ভক্তির এক উজ্জ্বল নিদর্শন।”
পরিবারের সদস্যরাও বিপ্লবের পাশে আছেন পুরোপুরি। বিপ্লবের মা বলেন, “ছেলে যা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আমরা তা শ্রদ্ধা করি। ও যেন সুস্থভাবে যাত্রা শেষ করে, সেই প্রার্থনাই করি প্রতিদিন।”
যদিও সাধারণত ৫০ কিলোমিটার রাস্তা পায়ে হেঁটে বা যানবাহনে একদিনে অতিক্রম করা যায়, তবে দণ্ডি কেটে যাওয়ায় বিপ্লবের এই যাত্রায় সময় লাগবে প্রায় ৪ থেকে ৫ দিন। রাত্রিবাস, বিশ্রাম এবং পূজার জোগাড় নিয়েও চলছে চিন্তা, তবে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বিপ্লব জানিয়েছেন, “শিবের কৃপা আমার সঙ্গে আছে। আমি পৌঁছাবই।”
এই দণ্ডি কাটা যাত্রা হিন্দু ধর্মে এক অসীম ভক্তি ও আত্মনিবেদনের প্রতীক। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত শ্রাবণ মাসে, এমন ভক্তদের দেখা যায় যারা কাঁধে কাঁবর্তা বা দণ্ডি নিয়ে শত শত কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেন শিবলিঙ্গে জল ঢালার উদ্দেশ্যে।
বিপ্লবের যাত্রাও সেই সনাতন ধারারই এক নিদর্শন, যা আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। মানুষ যখন আধুনিকতার মাঝে ঈশ্বরকে ভুলে যাচ্ছে, তখন বিপ্লবের মতো যুবকের এই যাত্রা স্মরণ করিয়ে দেয়, ভক্তি এখনও বেঁচে আছে, সজীব, প্রবাহমান।












Leave a Reply