দুটো কিডনি নষ্ট হওয়া অসুস্থ স্বামীকে ফেলে রেখে, চিকিৎসার জন্য পাড়ার ছেলেদের সহযোগিতার ৩০ হাজার টাকা এবং পরিবারের শেষ সম্বল গহনা নিয়ে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত প্রেমিকের সাথে পালাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লো গৃহবধূ।

নদীয়া, নিজস্ব সংবাদদাতা:- অর্ধাঙ্গিনীকে ভালোবেসে বিশ্বাস করে তার বাবার হাতে তুলে দেওয়া সারা জীবনের অর্থ ফেরত পাওয়ার বদলে গলা ধাক্কা। দুটো কিডনি নষ্ট হওয়া অসুস্থ স্বামীকে ফেলে রেখে, চিকিৎসার জন্য পাড়ার ছেলেদের সহযোগিতার ৩০ হাজার টাকা এবং পরিবারের শেষ সম্বল গহনা নিয়ে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত প্রেমিকের সাথে পালাতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লো গৃহবধূ।
চরম এই অমানবিক ঘটনাটি নদীয়ার শান্তিপুর শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাজী মোহাম্মদ মহসিন লেনের।
জানা যায় সেখানকার বাসিন্দা জুলফিকার শেখ ডাকনাম সানি, আজ থেকে ১৩ বছর আগে কোতোয়ালি থানার ভালুকা কুন্ডু পাড়ার আমিন শেখের মেয়ে আমিনা বিবিকে বিবাহ করেন সামাজিক মতেই। তাদের একটি ১২ বছরের ছেলেও আছে। সানি পরিবারকে আরো সচ্ছল করবে বলে দুবাইয়ে পাড়ি দিয়েছিল আজ থেকে চার বছর আগে, দীর্ঘ লকডাউন সেখানেই দিনরাত পরিশ্রম করে নগদ অর্থ স্ত্রীর উপর অগাধ বিশ্বাস এবং ভালোবাসায় শশুর আমিন শেখ এর একাউন্টে পাঠায় প্রতি মাসে আঠারো কুড়ি হাজার টাকা। এমন কি সানির শান্তিপুরে থাকা একটি জমি ৫ লক্ষ টাকা, লটারিতে প্রাপ্ত নগদ 70000 টাকা, মোটরসাইকেল বিক্রি টাকা এসবই বিশ্বাস এবং ভরসা করে তুলে দিয়েছিলেন শশুরের হাতে, উদ্দেশ্য একটাই ছিলো, ফিরে এসে শ্বশুর বাড়ির এলাকা ভালুকাতে একটি জমি কিনে বাড়ি করে একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা গড়ে তোলার লক্ষ্যে। কারণ সানির বাবার মৃত্যু হয়েছে অনেকদিন আগেই একমাত্র মা, তিনিও মরণাপন্ন অসুস্থ।
এলাকাবাসীদের মতে, এ সমস্ত তোয়াক্কা না করে, একাধিক পরকীয়ায় মত্ত ওই গৃহবধু, সর্বক্ষণ ফোনে ব্যস্ত থাকতেন তিনি। গতকালকে সন্ধ্যাবেলায় স্বামী যখন ডায়ালিসিস করতে গেছে তখন হঠাৎ আমিনা বিবি নামে ওই গৃহবধূ তরফিতলপা গুটিয়ে হবু প্রেমিকের মোটরসাইকেলে চেপে রওনা দিতেই সন্দেহজনকভাবে ধাওয়া করে এলাকাবাসী। তাকে ধরতে না পারলেও শালা তোতন শেখ কে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করে, তাকে ধরে কাউন্সিলর দীপঙ্কর সাহাকে ডেকে শান্তিপুর থানার হাতে তুলে দেন তারা।
সানি বাবু বলেন এর আগেও আনোয়ার শেখ নামে অপর এক শালা তাকে গলায় দড়ি দিয়ে মৃত্যুতে প্রচারণা দেন, স্ত্রী ও বালিশ চাপা দিয়ে মারতে গিয়েছিল বেশ কয়েকবার।
তবে গতকালকে, তার এক বোনের কিছু গহনা এবং পাড়ার ছেলেদের সহযোগিতা তুলে দেওয়া নগদ 30000 টাকা নিয়ে চম্পট দিয়েছে আমিনা।
প্রতিবেশীদের দাবি একটাই, ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হওয়ার সমস্ত অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া হোক সানির এই দুঃসময়। কাউন্সিলর দীপঙ্কর সহ প্রশাসনিকভাবে শান্তিপুর থানার কর্তব্যরত পুলিশ অফিসারদের সাথে আলোচনা করেন সে বিষয় নিয়ে। এখন দেখার অপেক্ষায় আদৌ সানি তার কস্টার্জিত অর্থ ফিরে পান কিনা। তবে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শান্তিপুর থানা বিষয়টিতে তদন্ত নেমেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *