গরিবের টাকা কেড়ে, পরে ফেরত! কাটমানি কাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে গড়বেতা।

চন্দ্রকোনারোড, নিজস্ব সংবাদদাতা :- তৃণমূল জমানার চরম দুর্নীতির এক অকাট্য প্রমাণ মিলল গড়বেতায়। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নামে অসহায় গরিব মানুষের কাছ থেকে যে ‘কাটমানি’ লুঠ করা হয়েছিল, খাতার পাতায় সই করিয়ে আজ সেই টাকা উপভোক্তাদের ফেরত দেওয়া হলো। বৃহস্পতিবার গড়বেতা ৩ নম্বর ব্লকের সাতবাঁকুড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মেটাডহর পূর্ব বুথে বিজেপির উদ্যোগে আয়োজিত একটি বিশেষ শিবির থেকে এই টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, আবাসনসহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের নাম করে এলাকার খেটে খাওয়া মানুষের রক্ত জল করা টাকা দিনের পর দিন অন্যায়ভাবে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। এদিন প্রকাশ্য শিবিরে খাতায় নাম নথিভুক্ত করিয়ে, উপভোক্তাদের সই নিয়ে সেই লুটের টাকা ফেরত দেওয়া হতেই এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ফেটে পড়ে।

নিজেদের হকের টাকা ফেরত পেয়ে উপভোক্তারা স্বস্তি পেলেও, এই ঘটনা দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যবস্থার গালে এক চরম চপেটাঘাত। তবে টাকা ফেরত পাওয়ার সাথে সাথেই জনমানসে ধিক্কারের সুরে এক জ্বলন্ত প্রশ্ন উঠে গেছে— ‘টাকা ফেরত দিলেই কি অপরাধ কমে যায়?’

সচেতন নাগরিক মহলের স্পষ্ট বক্তব্য, গরিবের টাকা অন্যায়ভাবে ছিনিয়ে নেওয়া আর পাঁচটা চুরির মতোই এক চরম দণ্ডনীয় অপরাধ। আজ বেগতিক দেখে বা প্রবল আন্দোলনের চাপে পড়ে সেই টাকা ফিরিয়ে দিলেই কি অপরাধীর পাপ ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যায়? কোনো চোর ধরা পড়ার পর চুরি যাওয়া মাল ফেরত দিলে যেমন তার অপরাধ কমে না, তেমনই এই কাটমানি খোরদেরও কেবল টাকা ফেরতের আড়ালে আড়াল করা যাবে না। এদের অবিলম্বে কঠোর আইনি শাস্তি হওয়া উচিত। টাকা ফেরত মিললেও, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এখন ফুঁসছে গড়বেতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *