বালির খুদে সাঁতারুর বড় সাফল্য, ৪২তম সাব-জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে তিন পদক।

হাওড়া, নিজস্ব সংবাদদাতা: সাঁতারে জাতীয় স্তরে জোড়া সোনা ও একটি রুপোর পদক জিতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করেছে বালির খুদে সাঁতারু অংশুমান। তার এই সাফল্যে খুশি পরিবার থেকে শুরু করে এলাকার ক্রীড়াপ্রেমীরা। কৃতী এই সাঁতারুকে সংবর্ধনা জানাতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছন বালির বিধায়ক সঞ্জয় সিং।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৪২তম সাব-জুনিয়র অ্যাকোয়াটিক চ্যাম্পিয়নশিপে তৃতীয় গ্রুপে অংশ নিয়ে নজরকাড়া সাফল্য অর্জন করে অংশুমান। ১০০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক ইভেন্টে প্রথম হয়ে সোনা জয়ের পাশাপাশি ৪×৫০ মিটার ব্যাকস্ট্রোক রিলেতেও প্রথম স্থান অর্জন করে আরও একটি সোনার পদক পায় সে। এছাড়াও ৪×৫০ মিটার ফ্রিস্টাইল রিলে দ্বিতীয় হয়ে রুপোর পদক জয় করেছে অংশুমান।

বর্তমানে অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অংশুমান বালির একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করে। ছোটবেলা থেকেই সাঁতারের প্রতি তার বিশেষ আগ্রহ। মজার বিষয়, অংশুমানের বাবা নিজেও একজন সাঁতারু ছিলেন। তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকাকালীন স্পোর্টস কোটায় সাঁতারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বাবার কাছ থেকেই সাঁতারের প্রতি আরও অনুপ্রেরণা পেয়েছে অংশুমান।

মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান অংশুমানের স্বপ্ন অবশ্য অনেক বড়। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক স্তরের সাঁতারু হয়ে বাংলার পাশাপাশি ভারতের নাম বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে চায় সে। জাতীয় স্তরে একের পর এক সাফল্য সেই স্বপ্নের পথেই তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ছেলের এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত খুশি তার মা ও দিদা। তবে অংশুমানের বাবা-মায়ের আক্ষেপ, সাঁতারের মতো ব্যয়বহুল খেলায় নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরিকাঠামো ও অন্যান্য খরচ সামলানো মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সহজ নয়। সরকারি বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে যদি অংশুমানের পাশে দাঁড়িয়ে আর্থিক ও পরিকাঠামোগত সাহায্য করা হয়, তাহলে আগামী দিনে সে আরও ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারবে বলে তাঁদের আশা।

জাতীয় স্তরে জোড়া সোনা ও একটি রুপো জয়ের পর এখন অংশুমানের চোখ আন্তর্জাতিক মঞ্চের দিকে। তার প্রতিভা, পরিশ্রম এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা। বাংলার এই উঠতি সাঁতারু আগামী দিনে দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে—এমনই প্রত্যাশা পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীদের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *