পশ্চিম মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- শালবনির জমি কেলেঙ্কারি মামলায় এবার বড় পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের। সরকারি জমি বেআইনিভাবে রায়তি জমি হিসেবে নথিভুক্ত করে বিক্রির অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট জমি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নিল প্রশাসন। সোমবার বিতর্কিত জমিগুলির সামনে সরকারি বোর্ড লাগিয়ে সেগুলিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন বলে ঘোষণা করা হয়। প্রশাসনের এই পদক্ষেপ ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার শালবনিতে।
অভিযোগ, ভুয়ো নথিপত্রের মাধ্যমে সরকারি জমিকে রায়তি জমি হিসেবে দেখিয়ে বিক্রি করা হয়েছিল। বিষয়টি সামনে আসার পর তদন্তে নামে সিআইডি। মামলায় একাধিক ব্যক্তির নাম জড়িয়েছে। এবার তদন্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমিগুলির উপর সরকারি অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জমি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়াতেও সক্রিয় হল রাজ্য প্রশাসন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার নির্দিষ্ট জমিগুলির সামনে বোর্ড লাগিয়ে সেগুলি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অধীন বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। শালবনির ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের আধিকারিকের বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারি নির্দেশ পাওয়ার পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।
মামলায় একাধিক ব্যক্তির নাম এই জমি কেলেঙ্কারি মামলায় অভিযোগের তালিকায় রয়েছেন তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক তথা দলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সুজয় হাজরা। পাশাপাশি, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের নামও এই মামলায় উঠে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এছাড়াও অমিত ঘোষ, নৃত্য রায় এবং লক্ষ্মীকান্ত ভুঁইয়ার নামও মামলার সূত্রে সামনে এসেছে। সরকারি জমি বেআইনিভাবে হস্তান্তরের অভিযোগের তদন্ত চালাচ্ছে সিআইডি। মামলার সূত্রে অভিযুক্তদের হেফাজতে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা এখনও আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষ।
কী জানাল ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতর?
শালবনির বিএলআরও মৈনাক চট্টোপাধ্যায় জানান, সরকারি নির্দেশ পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট জমিগুলিতে বোর্ড লাগিয়ে দখল নেওয়ার কাজ করা হয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমাদের নির্দেশ এসেছে, সেইমতো আমরা কাজ করলাম। এগুলো সরকারি জমি, এগুলো দখল নেওয়া হয়েছে।” তদন্তের পাশাপাশি জমি পুনরুদ্ধারে নজর
সরকারি জমি কীভাবে রায়তি জমি হিসেবে নথিভুক্ত হল এবং কীভাবে সেই জমি বিক্রির অভিযোগ উঠল, তা নিয়েই তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জমিগুলির উপর সরকারি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
তবে কত পরিমাণ জমি এই প্রক্রিয়ার আওতায় এসেছে এবং আগামী দিনে আরও কী কী পদক্ষেপ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
একদিকে জমি কেলেঙ্কারি মামলার তদন্ত, অন্যদিকে সরকারি সম্পত্তি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ—এই দুই বিষয়কে ঘিরেই এখন নজর শালবনির দিকে। আগামী দিনে তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।












Leave a Reply