মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:—ইতিহাসের পাতায় জড়িয়ে রয়েছে শতাব্দী প্রাচীন জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর স্মৃতি। সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, অবসান হয়েছে জমিদারি প্রথার, কিন্তু হারিয়ে যায়নি সেই পুজোর ঐতিহ্য।
এক সময় জমিদার পরিবারের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই পুজো বর্তমানে পরিচালনা করছে বুলবুলচণ্ডী মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়াল ক্লাব যা এম এম সির দুর্গাপূজা নামে খ্যাত । এবছর ক্লাবের দুর্গাপুজো ৬৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন ভাবনার মেলবন্ধন ঘটিয়ে এবার মণ্ডপসজ্জায় থাকছে টেরাকোটা শিল্পের কারুকার্য , যা দর্শনার্থীদের পুজো মন্ডপে বিশেষ আকর্ষণ করবে বলে মনে করছেন কমিটির সদস্যরা। জমিদার পরিবারের সদস্য সাধন কুমার রায়ের কথায়, প্রায় ১৫০ বছর আগের সেই দুর্গাপুজোর স্মৃতি আজও তাদের মনে পড়ে। তৎকালীন জমিদার স্বর্গীয় ব্রজলাল রায়ের হাত ধরেই এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীকালে রাজেন্দ্র নারায়ণ রায় পুজোর দায়িত্ব সামলান। এরপর এলাকায় ‘রানি মা’ নামে পরিচিত গিরিজা সুন্দরী দেবীও এই পুজোর আয়োজন করেন। দীর্ঘদিন ধরে জমিদার পরিবারের উদ্যোগেই নিষ্ঠার সঙ্গে অনুষ্ঠিত হতো দেবী দুর্গার আরাধনা, লাইসেন্স প্রাপ্ত বন্দুক দিয়ে গুলি চালিয়ে পুজো শুরু হত। এই পুজো কে ঘিরে মেলা ও আদিবাসী নৃত্য হত। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জমিদারি প্রথার অবসান ঘটে। এরপরও কয়েক বছর ধরে পুজো চললেও ১৯৫৪ সালে জমিদার পরিবারের পক্ষ থেকে পুজো বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে বুলবুলচণ্ডী মৃত্যুঞ্জয় মেমোরিয়াল ক্লাব এই পুজোর দায়িত্বভার গ্রহণ করে।
ক্লাবের উদ্যোগে নতুন করে শুরু হয় দুর্গাপুজো । সেই থেকে এলাকার মানুষের সহযোগিতায় বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে এই ঐতিহ্যবাহী পুজো। পুজো কমিটির সম্পাদক ও ক্লাবের দায়িত্বে থাকা সদস্যরা জানান, এবারের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হতে চলেছে টেরাকোটা শিল্পের কারুকার্যে মণ্ডপসজ্জা। বাঁশের তৈরি বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে মণ্ডপ। ডালি, কুলো, চালূন সহ গ্রামবাংলার পরিচিত নানা সামগ্রী ব্যবহার করে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে লোকজ শিল্প ও গ্রামীণ সংস্কৃতির নান্দনিক রূপ। এবারের পুজোর বাজেট প্রায় ৮ লক্ষ টাকা।
জমিদারি প্রথার অবসানেও হারায়নি ঐতিহ্য, বুলবুলচণ্ডীর এমএমসি দুর্গাপুজোয় লোকশিল্পের মেলবন্ধন।












Leave a Reply