ডোকরা শিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বালুরঘাট সৃজনী সংঘ।

দঃ দিনাজপুর, নিজস্ব সংবাদদাতাঃ-দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্যবাহী পুজো গুলির মধ্যে অন্যতম বালুরঘাট সৃজনী সংঘের দুর্গোৎসব। ৬৯ তম বর্ষে এবারে পদার্পণ করেছে এই দুর্গাপূজা। ভারতের প্রাচীনতম শিল্পের ঐতিহ্যকে মন্ডপে ফুটিয়ে তুলেছে বালুরঘাট সৃজনী সংঘ।

হরপ্পা মহেঞ্জোদারো সভ্যতার নারী মূর্তির আকার ডোকরা শিল্পের মাধ্যমে দেখা যায় তা নিদর্শন। এই ডোকরা শিল্প এখন প্রায় বিলুপ্তের পথে। ডোকরা শিল্পকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরতে এই উদ্যোগ গ্রহণ করে বালুরঘাট সৃজনী সংঘ। হরপ্পা মহেঞ্জোদারোর পর এক সময় দেখা যায় ঝাড়খণ্ডের কিছু এলাকায় কাঁসা ও পিতল গলিয়ে ডোকরা শিল্পর কাজ শুরু করে একদল মানুষ যাদের কথিত ভাষায় বনজারা বলে সম্বোধিত করা হয়। এই বনজারা সম্প্রদায়ের মানুষ ঝাড়খন্ড থেকেও শিল্প বিস্তার করতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এসে পৌঁছায়। সম্প্রতি এই লোকরা শিল্পী নিদর্শন বাঁকুড়া পুরুলিয়া মেদিনীপুর সহ পূর্ব বর্ধমানের কিছু এলাকায় দেখা যায়। যেখানে কাঁসা এবং পিতলের বাসন গলিয়ে বনজারা সম্প্রদায়ের মানুষেরা ডোকরা শিল্পর কাজ করে থাকেন।
এই বিলুপ্তপ্রায় শিল্পকে আবারো একবার সামাজিক স্বীকৃতি দিতে দেকরার আদলে গড়ে তোলা হয়েছে মন্ডপ্রাঙ্গন। একইভাবে মা দুর্গার প্রতিমাতেও রয়েছে ডোকরার কাজ। আনুমানিক ১৮ লক্ষ টাকা ব্যয় এবছর এই ডোকরা শিল্প কে দুর্গা পূজার মন্ডপে ফুটিয়ে তুলেছে বালুরঘাট সৃজনী সংঘ। এবং সাথে রয়েছে সামঞ্জস্য বজিয়ে রেখে চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা যা মন কাড়ছে আপামর জেলা বাসির।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *