আলুতে ‘কাটমানি’র অভিযোগ, শালবনীতে তৃণমূলকে নিশানা বিজেপি প্রার্থী বিমান মাহাতো।

নিজস্ব সংবাদদাতা, পশ্চিম মেদিনীপুর :- নির্বাচনী নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই তেতে উঠেছে জঙ্গলমহলের রাজনীতি। এবার আলু চাষিদের বঞ্চনা এবং শাসকদলের বিরুদ্ধে সরাসরি ‘কাটমানি’র বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে শালবনী বিধানসভা কেন্দ্রের রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন বিজেপি প্রার্থী বিমান মাহাতো। তাঁর সাফ দাবি, তৃণমূলের আমলে কৃষক নয়, পকেট ভরছে লুটেরা সিন্ডিকেটের।

এদিন শালবনীর বিধানসভায় প্রচার চলাকালীন বিমান মাহাতোর সাথে হঠাৎ দেখা হয় এক চাষীর নিজের অভাব অভিযোগ জানাতেই বিমান মাহাতো সংবাদ মাধ্যমের উদ্দেশ্যে শাসকদলকে আক্রমণ করে বলেন, সরকারিভাবে চাষীদের কাছ থেকে আলু কেনার নামে প্রহসন চলছে। কৃষকরা যখন ন্যায্য দামের আশায় হাহাকার করছেন, তখন সরকারি ক্রয় কেন্দ্রে আলু দেওয়ার নাম করে তৃণমূলের মেজ-সেজ নেতারা সাধারণ চাষিদের থেকে মোটা অংকের ‘কাটমানি’ আদায় করছেন। তাঁর অভিযোগ, “তৃণমূল মানেই লুণ্ঠন। চাষির রক্ত জল করা ঘামের টাকায় ভাগ বসাচ্ছে শাসকদলের নেতারা। কৃষকদের জন্য বরাদ্দ টাকা সরাসরি তাদের অ্যাকাউন্টে যাওয়ার বদলে চলে যাচ্ছে দলের তহবিলে।”

বিজেপি প্রার্থী এদিন চাষিদের সামনে বিকল্প দিশার কথা তুলে ধরেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, কেন্দ্রে বিজেপি সরকার রয়েছে এবং প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশাতেও বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে। বাংলায় বিজেপি জিতলে এই দুই সরকারের সহযোগিতায় শালবনীর আলুকে সরাসরি ভিনরাজ্যের বাজারে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। বিমান মাহাতোর কথায়, “আমাদের সরকার এলে হিমঘরের কালোবাজারি বন্ধ হবে। মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট কমিয়ে চাষিদের উৎপাদিত ফসল ভিনরাজ্যে পাঠানোর সুশৃঙ্খল পথ তৈরি করা হবে, যাতে কৃষকরা লাভের মুখ দেখেন।”

বিমান মাহাতো এদিন স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে কৃষি ক্ষেত্রে তৃণমূলের তৈরি করা তোলাবাজি সিন্ডিকেট সমূলে উৎখাত করা হবে। অন্য রাজ্যে আলু রফতানির মাধ্যমে চাষিদের জন্য বড় বাজার নিশ্চিত করা হবে। যারা চাষিদের ন্যায্য পাওনা থেকে টাকা কেটে নিয়েছে, তাদের প্রতিটি পয়সার হিসাব দিতে হবে।

বিজেপি প্রার্থীর এই কড়া ও ঝাঁঝালো আক্রমণ শালবনীর কৃষিজীবী মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আলু চাষিদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে বিমান মাহাতো সরাসরি শাসকদলের মূলে আঘাত করতে চাইছেন। তৃণমূল এই অভিযোগ অস্বীকার করলেও, ‘কাটমানি’ আর ‘ভিনরাজ্যে রফতানি’—এই দুই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বর্তমানে শালবনীর লড়াই এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে। এখন দেখার, ইভিএমে চাষিরা তাঁদের ক্ষোভের প্রতিফলন ঘটান কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *