বিদ্যালয় চালাচ্ছেন স্থানীয় দুই মহিলা? পাড়ো জুনিয়র হাইস্কুলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– স্কুলে মাত্র একজন শিক্ষক। অথচ তিনি নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হন না বলে অভিযোগ। তাঁর পরিবর্তে স্থানীয় দুই মহিলার উপর স্কুল পরিচালনার দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনই উদ্বেগজনক চিত্র সামনে এসেছে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের তুলসীহাটা চক্রের পাড়ো জুনিয়র হাইস্কুলে। অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিমাদ্রী শেখর মণ্ডলের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধান শিক্ষক নিয়মিত স্কুলে আসেন না। তিনি অধিকাংশ সময় মালদহে থাকেন এবং মাঝে মধ্যে চাঁচলের ভাড়া বাড়িতে অবস্থান করেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মাসের পর মাস বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন বলেও অভিযোগ। এর ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। শিক্ষকের অভাবে পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, খাতাকলমে পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ৫০ থেকে ৬০ জন ছাত্রছাত্রীর নাম নথিভুক্ত থাকলেও বাস্তবে প্রতিদিন মাত্র দু’তিনজন পড়ুয়া স্কুলে আসে। কোনো কোনো দিন একজনও উপস্থিত থাকে না। অভিযোগ, মিড-ডে মিলও নিয়মিত রান্না হয় না। এলাকাবাসীর দাবি, প্রধান শিক্ষক স্থানীয় দুই মহিলাকে মাসিক এক হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক দিয়ে বিদ্যালয় পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছেন। তবে বিষয়টি শিক্ষা দপ্তরের অনুমোদিত কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শুধু শিক্ষাব্যবস্থাই নয়, বিদ্যালয়ের পরিকাঠামোর অবস্থাও অত্যন্ত শোচনীয় বলে অভিযোগ। স্কুল চত্বরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আবর্জনা। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে। এমনকি বিদ্যালয়ের সিঁড়ির ধাপে কন্ডোমের খালি প্যাকেট ও নেশাজাতীয় দ্রব্যের বিভিন্ন সামগ্রী পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেই ছবিও সামনে এসেছে। ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় বাসিন্দা নাসিম আক্তার ও বাদল আলিরা বলেন, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রধান শিক্ষকের গাফিলতির কারণেই আজ স্কুলের এই দুরবস্থা। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *