ওয়ারিশ সার্টিফিকেট জাল করে জমি হাতানোর অভিযোগ, থানায়-বিএলঅ্যান্ডএলআরও দপ্তরে অভিযোগ।

মালদা, নিজস্ব সংবাদদাতা:– জাল ওয়ারিশ সার্টিফিকেট ব্যবহার করে প্রতিবেশী পাঁচ ভাইয়ের বাস্তুভিটা-সহ প্রায় আড়াই বিঘা জমি নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে নেওয়ার অভিযোগ উঠল হরিশ্চন্দ্রপুরের পাড়ো গ্রামে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এক তৃণমূল নেতা-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে হরিশ্চন্দ্রপুর থানার পাশাপাশি ব্লক ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা হলেন মহম্মদ মহসীন, ইসরাইল হক, মঞ্জুর আলম, মহম্মদ নোমান ও রবিউল ইসলাম। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দা আসিরুল হক, আনিসুল হক-সহ পাঁচজন জাল নথির মাধ্যমে তাঁদের জমি নিজেদের নামে রেকর্ড করিয়ে নিয়েছেন। এই ঘটনার পিছনে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও ঠিকাদার কাশফুল হোদা ওরফে রাজা এবং তুলসীহাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শামিমা পারভিনের স্বামী দিল রোজের মদত রয়েছে বলেও অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। যদিও তাঁরা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে থাকা জমি ও বাস্তুভিটার নথি যাচাই করতে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, তাঁদের সম্পত্তি অন্যদের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়ে গিয়েছে। পরে খোঁজখবর নিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, একটি ওয়ারিশ সার্টিফিকেটের ভিত্তিতেই ওই রেকর্ড সম্পন্ন হয়েছে।অভিযোগকারীদের বক্তব্য, ওই ওয়ারিশ সার্টিফিকেটটি জাল। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত পক্ষের বাবার নাম একই হলেও তাঁদের পূর্বপুরুষ আলাদা। অভিযোগকারীদের দাবি, এই বিষয়টিকে কাজে লাগিয়ে দুই পরিবারকে একই বংশের সদস্য হিসেবে দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি রেকর্ড করানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের আরও অভিযোগ, ওয়ারিশ সার্টিফিকেট ইস্যুর আগে কোনও প্রকার স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য দিয়ে যাচাই বা ভেরিফিকেশন করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা গত চার মাস ধরে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েও কোনও সুরাহা পাননি। ফলে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তা ও সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে দাবি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারী পরিবারের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *