নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দ্রকোনা রোড :- চাকরি জীবন থেকে অবসর নিয়েছেন বেশ কিছুদিন হলো। একসময় এলাকার রাজনৈতিক মহলে তার পরিচিতি ছিল এক ডাকে। চন্দ্রকোনা রোড এলাকায় ‘বিজেপি’ বললেই একসময় যার নাম সবার প্রথমে উঠে আসত, দীর্ঘদিনের সেই দাপুটে দলীয় মুখকে ঘিরেই এবার নতুন জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে। স্থানীয় চন্দ্রকোনা রোড গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের পরিচালন সমিতির পরবর্তী সভাপতি (প্রেসিডেন্ট) হিসেবে তার নাম মনোনীত হতে পারে— এমনই এক জোরালো গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে গোটা এলাকায়। তবে এই গুঞ্জনের আবহেই তৈরি হয়েছে এক নতুন বিতর্কও।
সম্প্রতি ওই কলেজেরই বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সাথে উক্ত নেতার একটি ‘গোপন বৈঠক’ ঘিরে তুমুল চাঞ্চল্যও ছড়িয়েছে। জানা গেছে, দু’জনের মধ্যে বেশ কিছুক্ষণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। আর সেই বৈঠকের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গেছে স্থানীয় জনমানসে। প্রশ্ন উঠছে এই বৈঠকের সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে। কারণ, যার সাথে এই বৈঠক হয়েছে, সেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম, তহবিল তছরুপ, চুরি ও দুর্নীতিসহ নানা অনৈতিক ও অরাজকতামূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নষ্ট করার পেছনেও ওই অধ্যক্ষের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছেন স্থানীয় মানুষ ও পড়ুয়াদের একাংশ। গুঞ্জনে শোনা যাচ্ছে এমন একজন বিতর্কিত ও অভিযুক্ত অধ্যক্ষের সাথে একদা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তথা কলেজ সভাপতি পদের অন্যতম দাবিদারের এই গোপন বৈঠককে ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ মানুষ। কেউ কেউ বলছেন ওই নেতা একসময় সিপিএমের সঙ্গে সেটিং করে চাকরি পেয়েছিল। দীর্ঘদিন গোপন সেটিং করেই জীবন অতিবাহিত করেছে। তার ভুলভাল রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে অনেকের রাজনৈতিক কেরিয়ার নষ্ট হয়ে গেছে। যদিও বর্তমানে তিনি বিজেপির উচ্চপদস্থ এবং সম্মানীয় পদে আসীন তাই এই ব্যক্তিকে ঘিরে মুখে কুলুপ বিজেপির। তবে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই স্থানীয় মহলে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কেউ কেউ বলছেন কলেজের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক পদে বসার আগেই কেন একজন বিতর্কিত ও দুর্নীতিগ্রস্ত আধিকারিকের সাথে গোপনে বৈঠক করতে হলো? তবে কি কোনো বিশেষ সমঝোতা বা ‘ডিল’ করার উদ্দেশ্যে এই বৈঠক? এই বৈঠকের পেছনে কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ লুকিয়ে রয়েছে?
স্থানীয় এক বাসিন্দার কথায়, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হলো পবিত্র জায়গা। সেখানে যদি কোনো বিতর্কিত ব্যক্তির সাথে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের এমন গোপন আঁতাত তৈরি হয়, তবে কলেজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। আমরা চাই স্বচ্ছ ভাবমূর্তির কেউ কলেজের দায়িত্বে আসুক।” যদিও এই গুঞ্জন এবং গোপন বৈঠক প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষেরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সভাপতি মনোনয়নের আগেই এই ‘গোপন বৈঠক’ বিতর্ক যে গৌরব গুঁইন মেমোরিয়াল কলেজের পরিচালন পর্ষদ গঠনের আবহকে অনেকটাই উত্তপ্ত করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, জল শেষ পর্যন্ত কোন দিকে গড়ায়।












Leave a Reply