মেদিনীপুর, নিজস্ব সংবাদদাতা:- আর মাত্র কয়েকদিন পরেই ১১ আগস্ট ক্ষুদিরাম বসুর আত্ম বলিদান দিবস। তার আগে শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর নামে ট্রেনের দাবি উঠলো।
মেদিনীপুর থেকে মোজাফফরপুর পর্যন্ত একটা ট্রেন চালানো হোক যার নাম থাকবে শহীদ ক্ষুদিরাম বসু এক্সপ্রেস। ভারতের রেলমন্ত্রীর কাছে এমন আবেদন করলেন মেদিনীপুরের যুবক অরিন্দম ভৌমিক এবং শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর দিদি অপরুপা দেবীর নাতি সুব্রত রায়। শনিবার মুজাফফরপুর এর সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় জলসম্পদ মন্ত্রী রাজ ভূষণ চৌধুরীর হাতে চিঠির প্রতিলিপি তুলে দেন। উপস্থিত ছিলেন ওই রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী কেদার প্রসাদ গুপ্তাও।শুধু ক্ষুদিরাম বসুর নামে ট্রেনই নয়, চিঠিতে তারা আরও দুটি দাবি রেখেছেন রেলমন্ত্রীর কাছে। তাদের দাবি মেদিনীপুর থেকে মোজাফফরপুর সরাসরি ট্রেন চালু করতে হবে আর হাওড়া থেকে মোজাফফরপুর গ্রামে কোন একটি ট্রেন মেদিনীপুর হয়ে চালাতে হবে। অরিন্দমরা বললেন এই দাবি আমরা ইতিপূর্বে মেদিনীপুরের বিধায়ক জুন মালিয়াকে জানিয়েছিলাম, বর্তমান বিধায়কক শংকর গুছাইত কেও জানানো হয়েছে।
কথিত রয়েছে ক্ষুদিরাম বসুর আত্ম বলিদান এর আগে কয়েকটি শেষ ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।তার মধ্যে একটি হলো তিনি চেয়েছিলেন তার মৃত্যুর আগে যেন তার পুণ্যভূমি মেদিনীপুরের মাটিতে পা রাখতে পারেন। কিন্তু তার সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়নি। সেজন্য বেশ কয়েক বছর ধরে মেদিনীপুর থেকে মাটি নিয়ে মোজাফফরপুরের ক্ষুদিরামের চিতা ভূমিতে মাটি দিয়ে আসেন মেদিনীপুরের যুবক অরিন্দম। সেই মাটিতে একটি করে চারাগাছ রোপন করেন। এ বছরও ক্ষুদিরামের স্কুল মেদিনীপুর কলেজিয়েট স্কুলের থেকে মাটি সংগ্রহ করে পৌঁছে যান মোজাফফরপুরে। ১১ই আগস্ট ক্ষুদিরামের আত্ম বলিদান দিবসের দিন সেই মাটি ক্ষুদিরামের চিতা ভূমিতে দেবেন। সেই কাজের সূত্র ধরেই আগের থেকে যোগাযোগ করেছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে। শনিবার মোজাফফরপুরে সার্কিট হাউসে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হাতে চিঠি তুলে দিয়ে তিনি তিন দফা দাবি জানিয়েছেন। অরিন্দমরা চিঠিতে উল্লেখ করেছেন ‘ শহীদ ক্ষুদিরাম বসুর জীবন ও আত্মত্যাগের সঙ্গে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত থাকা দুটি শহর হল মেদিনীপুর তার জন্মস্থান এবং মোজাফফরপুর যেখানে তিনি শহীদ হয়েছিলেন। এই দুই শহরের মানুষের কাছে ক্ষুদিরাম শুধুমাত্র ইতিহাসের একটি চরিত্র নন তিনি গর্ব অনুপ্রেরণা এবং এক অভিন্ন ঐতিহ্যের প্রতীক।’ ক্ষুদিরাম বসু যেদিন বোমা নিক্ষেপ করেছিলেন সেই সময় মেদিনীপুর থেকে মোজাফফরপুরে ট্রেনে গিয়েছিলেন। চিঠিতে অরিন্দমরা লিখেছেন ‘ ১৯০৮ সালে শহীদ ক্ষুদিরাম বসু মোজাফফরপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রথমে মেদিনীপুর থেকে কলকাতা পর্যন্ত ট্রেনে যাত্রা করেছিলেন।কয়েকদিন পর কলকাতা থেকে আরো একটি ট্রেনে মোজাফফরপুর এর উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আজ তাঁর শহীদ হওয়ার ১১৮ বছর পরেও পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হয়নি।মেদিনীপুর থেকে মোজাফফরপুর যেতে এখনো কলকাতা হয়ে যেতে হয়। আবার মোজাফফরপুর থেকে মেদিনীপুর আসতেও কলকাতা হয়ে আসতে হয়। দুই শহরের মধ্যে এত গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্কে থাকা সত্ত্বেও এখনো সরাসরি রেল যোগাযোগ নেই।’
মোজাফফরপুরে আদালতে যেখানে ক্ষুদিরাম বসুর বিচার হয়েছিল সেইখানে বিচারের সময় ক্ষুদিরাম বসু যে কাঠের ঘেরা তে দাঁড়িয়ে ছিলেন, সেই কাঠের ঘেরা অংশটি এখনো রয়েছে। সেই কাঠের অংশটি সংরক্ষণের দাবী রয়েছে অরিন্দমদের। মোজাফফরপুরের জেলাশাসক কে চিঠি দেওয়ার কথাও রয়েছে।
অরিন্দম জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে শুনেছেন এবং তিনি অল্প কিছুদিনের মধ্যেই রেলমন্ত্রীকে বিষয়টি জানাবেন বলে জানিয়েছেন।
মেদিনীপুর-মুজফ্ফরপুর সরাসরি রেল যোগাযোগের দাবি, ক্ষুদিরামের নামে এক্সপ্রেস চেয়ে চিঠি।












Leave a Reply